বগুড়ার সারিয়াকান্দির যমুনা পাড়ের মানুষের কাছে সড়কটি কেবল যাতায়াতের মাধ্যম নয়, এটি যেন ১০টি গ্রামের অর্থনৈতিক ও সামাজিক মেলবন্ধনের এক অনন্য সেতু। স্থানীয়দের দেওয়া আদুরে নাম—‘চায়না বাঁধ’। কিন্তু একদল বালুদস্যুর অতিলোভের কারণে এখন অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সড়কটি।
মাত্র ১০ মিটার দূরত্বের মধ্যে বসানো হয়েছে ৫টি দানবীয় ড্রেজার বা খননযন্ত্র। দিন-রাত ৬০ থেকে ১০০ ফুট গভীর করে তোলা হচ্ছে বালু। ফলে চোখের সামনেই ধসে পড়ছে সড়কের চারপাশ। স্থানীয়দের আশঙ্কা, আর কয়েকটা দিন এভাবে চললে সড়কটি বিলীন হয়ে যাবে।
কর্ণিবাড়ী ইউনিয়নের ডাকাতমারা নৌঘাট থেকে শোনপচা বাজার পর্যন্ত সংযোগ স্থাপনকারী এই সড়কটি নির্মিত হয়েছিল ২০২১ সালে, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে। সম্প্রতি সড়কটিতে ইটের সোলিংয়ের কাজ শেষ হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছিল হাজারো মানুষের মনে। কিন্তু সেই স্বস্তি এখন আতঙ্কে রূপ নিয়েছে।
শোনপচা গ্রামের খায়রুল মন্ডলের বাড়ির উত্তর পাশে তাকালেই চোখে পড়ে এক ভয়ানক দৃশ্য। মূল সড়ক ঘেঁষে তৈরি হয়েছে এক বিশাল কৃত্রিম ডোবা বা খাদ। যাতায়াতের প্রধান এই ধমনীর বুক চিরে নদী থেকে বালু তোলার এই মহোৎসব চলছে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে।
এলাকাবাসীর আঙুল সরাসরি স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের দিকে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক গ্রামবাসী জানান, শোনপচা গ্রামের প্রভাবশালী ফজলু মন্ডল এবং সাইদুল মেম্বারের নেতৃত্বেই চলছে এই প্রকাশ্য দিবালোকে অবৈধ বালু উত্তোলনের আয়োজন। প্রশাসনের নজরদারি এড়াতে বা তোয়াক্কা না করেই তারা এই ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছেন।
ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে স্থানীয় বাসিন্দা অয়েজ আলী শেখ বলেন, "বাঁধের একদম কোল ঘেঁষে ৫টা ড্রেজার দিন-রাত মাটি খুঁড়ছে। এখনই পাড় ভাঙতে শুরু করেছে। এই রাস্তা ভেঙে গেলে আমাদের আবার সেই আদিম যুগে ফিরে যেতে হবে, নৌকা ছাড়া চলাচলের কোনো উপায় থাকবে না।"
এ বিষয়ে সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুমাইয়া ফেরদৌস বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স। নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে খুব দ্রুত ‘চায়না বাঁধ’ এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হবে। ড্রেজার জব্দ করার পাশাপাশি এর পেছনে থাকা হোতাদের বিরুদ্ধে আইনগত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









