মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার লংলা আধুনিক ডিগ্রি কলেজের সামনে রবিরবাজার-কুলাউড়া আঞ্চলিক সড়কে অতিরিক্ত গতিতে যানবাহন চলাচলের কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।
বৃহস্প্রতিবার (০২ জুলাই) সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পারাপার নিশ্চিত করতে কলেজের সামনে দ্রুত স্পিড ব্রেকার নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক, কলেজ কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় এলাকাবাসী।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, কলেজ চলাকালীন প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী ব্যস্ত এই সড়ক পারাপার করে। কিন্তু যানবাহনের বেপরোয়া গতির কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়। সড়কে গতিনিয়ন্ত্রণে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না থাকায় শিক্ষার্থীদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ইতোমধ্যে ছোট-বড় বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনা ঘটেছে, যা এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
এলাকাবাসী জানান, ২০১৩ সালে কলেজের সামনে সড়ক দুর্ঘটনায় লংলা আধুনিক ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী আলাউদ্দিন ঘটনাস্থলেই নিহত হন। শুধু আলাউদ্দিনই নন, এই সড়কের বিভিন্ন স্থানে বেপরোয়া গতির যানবাহনের কারণে সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী ও শিক্ষার্থীরাও প্রাণ হারিয়েছেন। তাই ভবিষ্যতে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা এড়াতে কলেজের সামনে দ্রুত স্পিড ব্রেকার নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
শিক্ষার্থীরা বলেন, ক্লাস শুরু ও ছুটির সময় সড়ক পার হতে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়। দ্রুতগতির বাস, ট্রাক, প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলের কারণে সবসময় আতঙ্কে থাকতে হয়। তাই কলেজের প্রধান ফটকের সামনে স্পিড ব্রেকার নির্মাণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সড়ক নিরাপত্তা চিহ্ন ও সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপনের দাবি জানান তারা।
স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকরা বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। একটি স্পিড ব্রেকার নির্মাণ হলে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যাবে।
কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী হাসান আল মাহমুদ রাজু বলেন, “কলেজের সামনে প্রতিদিনই দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে। আমরা চাই না ২০১৩ সালের মতো আর কোনো শিক্ষার্থী সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাক। তাই প্রশাসনের কাছে দ্রুত কলেজের সামনে স্পিড ব্রেকার নির্মাণের জোর দাবি জানাচ্ছি।”
লংলা আধুনিক ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. নজমুল হুসেন বলেন, “কুলাউড়া উপজেলার মধ্যে আমাদের কলেজে শিক্ষার্থীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। কলেজটি রবিরবাজার-কুলাউড়া সড়কের পাশে হওয়ায় প্রতিদিন শিক্ষার্থীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হতে হয়। ২০১৩ সালে আমাদের এক শিক্ষার্থী কলেজের সামনে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার পর থেকে কলেজ কর্তৃপক্ষ, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী একাধিকবার স্পিড ব্রেকার নির্মাণের জন্য আবেদন করেছে। কিন্তু এখনো কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আমরা দ্রুত স্পিড ব্রেকার নির্মাণের মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানাই।”
মৌলভীবাজার সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কায়সার হামিদ বলেন, “সাধারণত মহাসড়কে স্পিড ব্রেকার নির্মাণ করা হয় না। তবে উপজেলা প্রশাসনের সুপারিশ এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের লিখিত আবেদনের ভিত্তিতে স্কুল, কলেজ বা মাদ্রাসার সামনে প্রয়োজন হলে স্পিড ব্রেকার নির্মাণ করা যেতে পারে। কলেজ কর্তৃপক্ষের আবেদন ও উপজেলা প্রশাসনের অনুমতি পেলে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হবে।”
কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা আক্তার বলেন, “আমি নতুন হিসেবে কুলাউড়ায় দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। লংলা আধুনিক ডিগ্রি কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি হিসেবে এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শনে কলেজে গিয়েছিলাম। কলেজ কর্তৃপক্ষ লিখিত আবেদন দিলে সড়ক বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
এদিকে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা সড়ক ও জনপথ বিভাগ, উপজেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত কলেজের সামনে স্পিড ব্রেকার নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় সড়ক নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, একটি কার্যকর উদ্যোগই ভবিষ্যতে বহু প্রাণহানি রোধ করতে পারে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









