গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ি ইউনিয়নের সুতী নদীর তীরঘেঁষে প্রায় ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত রাজাবাড়ি–দমদমা সড়কের একটি বড় অংশ নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই ধসে যাওয়ার ঘটনায় এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। জনদুর্ভোগের মুখে অবশেষে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে প্রতিমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি সড়কের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে সমস্যার বিষয়ে খোঁজখবর নেন।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, সড়ক নির্মাণকাজে কোনো ধরনের অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে সড়কের একপাশে কবরস্থান এবং অন্যপাশে ধান শুকানোর কারণে যানবাহনের চাপ একদিকে বেশি পড়েছে। এছাড়া নদীর তীরবর্তী মাটির বৈশিষ্ট্যের কারণেও সড়কের কিছু অংশ দেবে গেছে।
তিনি আরো বলেন, বিষয়টি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নজরে এসেছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতেই আমরা সরেজমিনে পরিদর্শনে এসেছি। ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত মেরামতের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে সাধারণ মানুষের চলাচল স্বাভাবিক হয়।
ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে নির্মাণকাজে আরও কঠোর নজরদারির আশ্বাস দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাস্তা নির্মাণের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি কিংবা নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার যেন না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। সরকার উন্নয়ন প্রকল্পে গুণগত মান নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নির্মাণ শেষ হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দেয়। পরে ধীরে ধীরে সড়কের একটি বড় অংশ নদীর দিকে দেবে যেতে শুরু করে। এতে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে হাজারো মানুষকে। বিশেষ করে ভারী যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, কৃষক ও ব্যবসায়ীরা।
এলাকাবাসীর দাবি, শুধু সাময়িক মেরামত নয়, প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করে স্থায়ী ও টেকসই সমাধানের ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে নির্মাণকাজের মান ও প্রকল্প বাস্তবায়নের পুরো বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
শ্রীপুর উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ রাজাবাড়ি–দমদমা সড়কটি স্থানীয়দের যোগাযোগ, কৃষিপণ্য পরিবহন এবং আঞ্চলিক যাতায়াতের অন্যতম প্রধান সড়ক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কিন্তু নির্মাণের কয়েক মাসের মধ্যেই সড়কের একাধিক অংশ ধসে পড়ায় প্রকল্পের গুণগত মান নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









