টানা তীব্র দাবদাহে নীলফামারীর সৈয়দপুরের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। আগুনঝরা রোদ ও ভ্যাপসা গরমে প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। জীবিকার তাগিদে বাইরে থাকা খেটে খাওয়া মানুষ সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন। এরই মধ্যে ঘন ঘন লোডশেডিং জনভোগান্তিকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
সৈয়দপুর আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার ও শনিবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা সৈয়দপুরে রেকর্ড করা হয় ৩৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রোববার (৫ জুলাই) তাপমাত্রা কিছুটা কমে ৩৭ নেমে এলেও গরমের তীব্রতায় জনজীবনে কোনো স্বস্থি ফেরেনি।
সৈয়দপুর আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লোকমান হাকিম বলেন, কয়েক দিন ধরে এ অঞ্চলে তাপপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। আগামী কয়েক দিনও একই ধরনের আবহাওয়া থাকতে পারে। বৃষ্টিপাত শুরু হলে তাপমাত্রা কিছুটা কমে পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সূর্যের প্রখর তাপে বিপর্যস্ত হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষের জীবন। প্রচন্ড রোদে ঘর থেকে বের হতে পারছে না শ্রমিক-দিনমজুরসহ খেটে খাওয়া মানুষ। সামান্য স্বস্থি ও একটু শীতল পরিবেশের জন্য সবাই ছুটছেন গাছের ছায়ায়। অতিরিক্ত গরমে শিশুসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ শরবত ও পানীয়ের দোকানে ভিড় করছেন। গরমে কুকুর, বিড়ালসহ বিভিন্ন ধরনের প্রাণী স্বস্থি খুঁজছে নিজস্ব আবহে। প্রচন্ড গরমে শহর ও গ্রামের সড়কগুলো দুপুরের দিকে প্রায় ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। সকাল ও বিকেলের পর ছাড়া প্রয়োজন ছাড়া মানুষ বাইরে বের হচ্ছেন না।
সৈয়দপুর মিস্ত্রিপাড়া এলাকার রিক্সাচালক সিরাজ (৪৮) বলেন, রোদ নয়, যেন আগুন ঝরছে। মাত্র ৮ থেকে ১০ মিনিট রোদে থাকলেই শরীর পুড়ে যাচ্ছে। গরমে বারবার তৃষ্ণা লাগছে। শীতের মতো ঠোঁট ফেটে যাচ্ছে। প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাইরে বের হচ্ছে না। দিনমজুর আব্দুল শহিদুল, কাউসার ও আব্দুর রহিম জানান, আমরা তো খেটে খাই। গরমে কাজ করা যায় না, আবার বসেও থাকতে পারি না। কাজ না করলে খাবো কী?
এভাবে তীব্র গরমে রিকশাচালক, ভ্যানচালক, দিনমজুর ও নির্মাণশ্রমিকসহ বিভিন্ন খেটে খাওয়া মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। তাঁদের ভাষ্য, জীবিকার প্রয়োজনে রোদ উপেক্ষা করে কাজ করতে হলেও প্রচন্ড গরমে দীর্ঘ সময় কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে দৈনিক আয়ও কমে যাচ্ছে।
এদিকে তাপদাহে স্বস্তি খুঁজতে শহরের বিভিন্ন মোড়ে শরবত, ডাব ও তালের শাঁসের দোকানে ক্রেতাদের ভিড় বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা জানান, অন্যান্য সময়ের তুলনায় এখন শরবতের বিক্রি কয়েক গুণ বেড়েছে। আবার গভীর রাত পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন সুইমিং পুলেও মানুষদের ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
অন্যদিকে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন সাধারণ মানুষ। লোডশেডিং থাকায় বাসাবাড়ি, দোকানপাট ও কর্মস্থলে দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের ভোগান্তি সবচেয়ে বেশি।
সৈয়দপুর ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের আরএমও ডা. নাজমুল হুদা বলেন, গরমে পানি স্বল্পতাসহ হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি রয়েছে। তীব্র দাবদাহে শিশু, বৃদ্ধ ও রোজাদারদের খুব জরুরি কাজ ছাড়া বাহির বের না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









