নীলফামারীর সৈয়দপুরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ইজিবাইক, ভ্যান ও মিশুকের বার্ষিক পার্কিং চার্জ ২ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ১ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল, পৌরসভা ঘেরাও ও স্মারকলিপি প্রদান করেছেন শত শত অটোশ্রমিক। দাবি আদায় না হলে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
সোমবার (৬ জুলাই) দুপুর ১২ টায় বাংলাদেশ অটোবাইক শ্রমিক কল্যাণ সোসাইটি, সৈয়দপুর উপজেলা শাখার উদ্যোগে উপজেলার বিভিন্ন উপ শাখা থেকে শত শত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ইজিবাইক, ভ্যান ও মিশুক চালক বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে পৌরসভা চত্বরে জড়ো হন। পরে তারা পৌরসভা ঘেরাও করে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন এবং পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন।
সমাবেশে শ্রমিক নেতারা বলেন, বর্তমান ধ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে স্বল্প আয়ের শ্রমিকদের সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে সৈয়দপুর পৌরসভার বার্ষিক ২ হাজার টাকা পার্কিং চার্জ তাদের জন্য বাড়তি বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ নীলফামারী সদরসহ জেলার অধিকাংশ পৌরসভায় একই ধরনের যানবাহনের জন্য মাত্র ১ হাজার টাকা পার্কিং চার্জ নেওয়া হয়। তাহলে সৈয়দপুরে দ্বিগুণ টাকা নেওয়ার যৌক্তিকতা কোথায়? এমন প্রশ্ন তোলেন তারা।
স্মারকলিপিতে শ্রমিকরা উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা সৈয়দপুর পৌর এলাকায় অটোরিকশা, ইজিবাইক, ভ্যান ও মিশুক চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন। কিন্তু সীমিত আয়ের মধ্যে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তাই মানবিক দিক বিবেচনায় বার্ষিক পার্কিং চার্জ ২ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ১ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি জানান তারা।
সমাবেশে বাংলাদেশ অটোবাইক শ্রমিক কল্যাণ সোসাইটির সৈয়দপুর উপজেলা শাখার সভাপতি হামিদুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বলেন, আমরা কোনো অবৈধ দাবি নিয়ে আসিনি। আমরা শুধু বৈষম্য দূর করতে চাই। নীলফামারীর অন্য পৌরসভায় যদি এক হাজার টাকা নেওয়া হয়, তাহলে সৈয়দপুরে দুই হাজার টাকা কেন? আমরা বারবার শান্তিপূর্ণভাবে দাবি জানিয়েছি। আজও আমরা স্মারকলিপি দিয়েছি। আমরা সংঘাত চাই না, সমাধান চাই। কিন্তু আমাদের দাবি উপেক্ষা করা হলে শ্রমিক সমাজ বৃহত্তর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে।
অন্যান্য শ্রমিকরা আরও বলেন, পার্কিং চার্জ না দিলে অনেক সময় পৌরসভার লোকজন গাড়ি আটক করে নিয়ে যায়। শ্রমিকদের সঙ্গে যে আচরণ করা হয়, তা কোনোভাবেই মানবিক নয়। আমরা শ্রমিক, কিন্তু দাস নই। আমাদের সম্মান নিয়ে কেউ খেলতে পারবে না। আমরা প্রতিদিন রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে পরিবার চালানোর জন্য রাস্তায় থাকি। সেই শ্রমিকদের সঙ্গে যদি অপমানজনক আচরণ করা হয়, তাহলে তা আর মেনে নেওয়া হবে না।
তারা আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পার্কিং চার্জ ১ হাজার টাকায় নামিয়ে আনার বিষয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত না এলে কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। প্রয়োজনে সৈয়দপুর অচল করে দেওয়ারও ঘোষণা দেন তারা। সমাবেশ চলাকালে শ্রমিকরা দুনিয়ার মজদুর এক হও, অন্যায় পার্কিং চার্জ মানি না, মানব না, শ্রমিকের ন্যায্য দাবি মানতে হবে সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন যুগ্ম সম্পাদক রশিদুল ইসলাম, টার্মিনাল শাখার সভাপতি শরিফুল ইসলাম, জহরুল হক, রাবেয়া শাখার সভাপতি আপন, আব্দুর রাজ্জাক, চৌমুহনি শাখার সভাপতি শফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ, তামান্না শাখার দিনার, আরজুসহ অন্যান্য শ্রমিক নেতারা।
এ বিষয়ে সৈয়দপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী আইয়ুব আলী বলেন, পৌরসভার পার্কিং চার্জ নতুন করে বাড়ানো হয়নি। ২০১৯ সালে যে হার নির্ধারণ করা হয়েছিল, বর্তমানে সেটিই কার্যকর রয়েছে। তবে শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে এবং পৌরসভার আগামী মাসিক সভায় আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য উপস্থাপন করা হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









