নীলফামারীর সৈয়দপুর সেনানিবাসের ফেয়ারপার্কে আয়োজিত ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প মেলার নামে র্যাফেল ড্র, লটারি, জুয়া এবং অশ্লীল নাচ-গানসহ বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপ পরিচালনার অভিযোগ তুলে মেলা বন্ধের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে স্মারকলিপি দিয়েছে ‘সচেতন জনতা সৈয়দপুর’ নামে একটি সংগঠন।
সোমবার (৭ জুলাই) দুপুরে সংগঠনটির সভাপতি মুফতি গোলাম রব্বানীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে স্মারকলিপি জমা দেন। একই সঙ্গে স্মারকলিপির অনুলিপি নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য, রংপুর বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক এবং সৈয়দপুর প্রেস ক্লাবেও পাঠানো হয়।
স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়, সৈয়দপুর সেনানিবাসের ফেয়ারপার্কে আয়োজিত ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প মেলার আড়ালে র্যাফেল ড্র, লটারি, জুয়া, নাচ-গান ও সার্কাসের নামে অসামাজিক কার্যকলাপ পরিচালিত হচ্ছে। এসব কার্যক্রম স্থানীয় জনগণের মধ্যে অসন্তোষ ও বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করছে এবং সমাজের জন্য দীর্ঘমেয়াদে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে দাবি করা হয়।
এছাড়া স্মারকলিপিতে বলা হয়, সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে অতিরিক্ত আলোকসজ্জার মাধ্যমে বিদ্যুতের অপচয় হচ্ছে। একই সঙ্গে মেলায় আগত দর্শনার্থী ও যানবাহনের চাপে সৈয়দপুর বিমানবন্দর সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এর ফলে সাধারণ মানুষ, কর্মজীবী, জরুরি সেবাগ্রহীতা এবং বিশেষ করে বিমানবন্দরে যাতায়াতকারী যাত্রীরা দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
সংগঠনটির দাবি, বর্তমানে এইচএসসি ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা চলমান থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, পরীক্ষা এবং যাতায়াতও ব্যাহত হচ্ছে।
স্মারকলিপিতে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মেলার সার্বিক কার্যক্রম বন্ধ করে এলাকার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। অন্যথায় সৈয়দপুরের সর্বস্তরের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
মুঠোফোনে সংগঠনের সভাপতি মুফতি গোলাম রব্বানী জানান, আপাতত মেলায় চলমান সকল অবৈধ লটারি, সার্কাসে অসামাজিক কার্যকলাপ বন্ধের দাবি জানিয়েছি, যদি তা বন্ধ না করা হয় তাহলে পুরো মেলা বন্ধের জন্য আমরা মাঠে নামবো।
স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন হাফেজ নুরুল হুদা, সাব্বির হোসেন, আল-আমিন, আল-মামুনসহ ‘সচেতন জনতা সৈয়দপুর’-এর অন্যান্য সদস্যরা।
অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে মেলা কর্তৃপক্ষের রাশেদ জানান, মেলায় কোনো ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপ পরিচালিত হচ্ছে না। তাদের দাবি, প্রবেশ টিকিটের বিপরীতে কেবল পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। সব কার্যক্রম যথাযথ নিয়ম মেনেই পরিচালিত হচ্ছে এবং মেলা সম্পর্কে অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। আয়োজকদের ভাষ্য, প্রতিদিন শান্তিপ্রিয় মানুষের উপস্থিতিতে মেলা প্রাণবন্ত হয়ে উঠছে।
গত ২৫ মে সৈয়দপুর সেনানিবাসের ফেয়ারপার্কে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প মেলার উদ্বোধন করা হয়। মেলার আয়োজন করেছে এসএমআর ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









