মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বিশেষ করে আয়-উপার্জন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সীমাহীন কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন খেটে-খাওয়া নিম্ন আয়ের খেটে-খাওয়া মানুষজন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ৪২ বছরের মধ্যে চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের প্রভাবে নদ-নদীর পানি আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে রাউজান উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার নিম্নাঞ্চলগুলো সম্পূর্ণ পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। রাউজান-নোয়াপাড়া সড়ক ও হাফেজ বজলুর রহমান সড়কসহ জনগুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু প্রধান সড়কের উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ার কারণে যান চলাচলে মারাত্মক ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে। টানা বর্ষণে সৃষ্ট পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে রাউজান পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের জানালিহাট ও ক্ষেত্রপাল এলাকায় ডাবুয়া খালের বাঁধ ভেঙে গেছে, যার ফলে ওই এলাকায় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।
এছাড়া উপজেলার সর্তারখাল, ডাবুয়া খাল, কাগতিয়া খাল, লাঠিছড়ি খাল, ডোমখালি খাল, মগদাই খাল, রাউজান খালসহ হালদা নদীর বিভিন্ন শাখাখালের পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে অভ্যন্তরীণ সড়ক, বাড়ি-ঘর এবং বিস্তীর্ণ ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। উপজেলার নোয়াপাড়া, উরকিরচর, পশ্চিমগুজরা, বিনাজুরী, চিকদাইর, হলদিয়া, ডাবুয়া, নোয়াজিষপুর, গহিরা, কদলপুর, পাহাড়তলী এবং পৌর এলাকার নন্দীপাড়া, জানালিহাট, কাজীপাড়া, ছিটিয়াপাড়া, শরীফপাড়া, বেরুলিয়া, ফকিরহাট বাজার, মুন্সিরঘাটা, কুণ্ডেশ্বরীসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা তীব্র আকার ধারণ করেছে। একই সাথে ভারী বৃষ্টিপাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মাছের ঘের ও পুকুর প্লাবিত হয়ে লাখ লাখ টাকার মাছ ভেসে যাওয়ায় মৎস্য খামারিরা ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
রাউজান উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. মাসুম কবির জানান, সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে রাউজানের বিভিন্ন এলাকায় আমনের বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ জানতে মাঠ পর্যায়ে সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।
সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম রাহাতুল ইসলাম বলেন, মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে টানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে রাউজানের বিভিন্ন এলাকায় জনদুর্ভোগে পড়া মানুষের পাশে উপজেলা প্রশাসন রয়েছে। ইতিমধ্যেই রাউজানের পাহাড়তলীর দাশপাড়াসহ বেশ কিছু জায়গায় জলাবদ্ধতার শিকার অসহায় মানুষের মাঝে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। যে সকল এলাকায় গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেগুলো পানি নেমে যাওয়ার পর জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া উপজেলা প্রশাসন এলাকার পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছে এবং মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে প্রতিটি ইউনিয়নের দায়িত্বরত প্যানেল চেয়ারম্যান ও সচিবদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









