গত দুই দিনের চলমান টানা বর্ষণ এবং ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় কৃষিজমি, মাছের খামার, খাল, সড়ক ও বসতঘরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খাল উপচে পানি প্রবেশ করায় সবজি ও ধানক্ষেত তলিয়ে গেছে। অনেক মাছের পুকুর ভেসে গেছে এবং কয়েকটি বসতঘর নদী ও খালের ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে।
জানা গেছে, ঢাকা-সিলেট পুরাতন মহাসড়কের একাধিক স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এর আগে টানা দুই দফা ভারী বর্ষণে রামগঙ্গা ও সুরমা চা বাগানের ২০ নং এলাকায় সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্য সৈয়দ মো. ফয়সলের নির্দেশনায় হবিগঞ্জ সড়ক বিভাগ জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারকাজ শুরু করে। তবে নতুন করে বৃষ্টির কারণে সেই স্থানগুলো আবারও ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
চৌমুহনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান সোহাগ জানান, ভবানীপুর এলাকায় নতুন খাল খননের পর পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে কয়েকটি বসতঘর ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। বিষয়টি জানার পর উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিয়ে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ কমাতে খালটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে আন্দিউড়া, চৌমুহনী, ধর্মঘর, বহরা শাহজাহানপুর ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ি ঢলের পানিতে একাধিক মাছের খামার তলিয়ে গেছে।
আন্দিউড়া গ্রামের মাছচাষি মুর্শেদ মিয়া জানান, হঠাৎ পাহাড়ি ঢলে তার চারটি পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। এতে প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
শাহজাহানপুর ইউনিয়নের কৃষক আলী হোসেন জানান, সীমনা ছড়া, হলহলিয়া ছড়া ও তেলিয়াপাড়া ছড়া দিয়ে নেমে আসা পাহাড়ি পানিতে কৃষিজমিতে পলি জমে বরবটি, শসা, লাউ, চালকুমড়া, চিচিঙ্গা, টমেটোসহ বিভিন্ন সবজি এবং আউশ ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
মাধবপুর মৎস্য কর্মকর্তা আবু আসাদ ফরিদুল হক বলেন, ‘‘গত দুই দিনের চলমান বর্ষণে প্রায় ২ শতাধিক পুকুরের মাছ ভেসে গেছে।’’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সজীব সরকার বলেন, ‘‘গত দুই দিনের চলমান টানা বর্ষণে সবজি ও আউশ ধানের উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের জন্য মাঠপর্যায়ে কাজ চলছে।’’
মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, ‘‘উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টিজনিত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়ার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। বৃষ্টি কমে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো মেরামত এবং প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









