টানা ১০ দিন বৈরী আবহাওয়া ও উত্তাল বঙ্গোপসাগরের কারণে বন্ধ থাকার পর আবারও চালু হয়েছে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথে ট্রলার চলাচল।
শনিবার (১১ জুলাই) টেকনাফ পৌরসভার কায়ুকখালী খালঘাট থেকে তিনটি কাঠের ট্রলারে করে চিকিৎসা, সরকারি কাজ ও জরুরি প্রয়োজনে টেকনাফে আটকে পড়া ১৫৯ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে নিরাপদে সেন্ট মার্টিন দ্বীপে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দ্বীপের ৩০০ পরিবারের জন্য পাঁচ মেট্রিক টন চাল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীও পাঠানো হয়েছে।
জানা গেছে, টানা ভারী বর্ষণ ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে গত ১ জুলাই থেকে টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন নৌপথে যাত্রীবাহী সার্ভিস ট্রলারের চলাচল বন্ধ ছিল। ফলে চিকিৎসা, সরকারি অফিস-আদালতের কাজ এবং প্রয়োজনীয় কেনাকাটার জন্য টেকনাফে আসা দেড় শতাধিক দ্বীপবাসী আটকা পড়েন। অনেকে টেকনাফের হোটেল কিংবা আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে দিন কাটান।
শনিবার (১১ জুলাই) সকাল থেকে বৃষ্টি কমে আসা এবং সমুদ্র কিছুটা শান্ত হওয়ায় প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কায়ুকখালী বোটঘাট থেকে তিনটি কাঠের ট্রলার সেন্ট মার্টিনের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। ট্রলারগুলো টেকনাফ থেকে ১৭ কিলোমিটার নাফ নদী এবং আরও ১৭ কিলোমিটার বঙ্গোপসাগরের উত্তাল পথ পাড়ি দিয়ে প্রায় তিন ঘণ্টা পর বেলা আড়াইটার দিকে নিরাপদে সেন্ট মার্টিন জেটিঘাটে পৌঁছে।
সেন্টমার্টিন বোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম জানান, তিনটি সার্ভিস ট্রলারে মোট ১৫৯ জন যাত্রী ছিলেন। তাদের মধ্যে ৮০ জন পুরুষ, ৪০ জন নারী এবং ৩৯ জন শিশু। বৈরী আবহাওয়ার কারণে দীর্ঘ ১০ দিন নৌযান চলাচল বন্ধ থাকলেও শনিবার (১১ জুলাই) পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হওয়ায় ট্রলার চলাচল সম্ভব হয়েছে।
সেন্ট মার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, ‘‘নানা শঙ্কা কাটিয়ে প্রায় তিন ঘণ্টার সমুদ্রযাত্রা শেষে ট্রলারগুলো নিরাপদে দ্বীপে পৌঁছেছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাঁচ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দ্বীপের ৩০০ পরিবারের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীও পাঠানো হয়েছে।”
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মো. অনীক চৌধুরী বলেন, ‘‘বৈরী আবহাওয়ার কারণে কয়েকদিন ধরে নিরাপত্তার স্বার্থে ট্রলার চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছিল। শনিবার সকাল থেকে আবহাওয়ার কিছুটা উন্নতি হওয়ায় আটকে পড়া যাত্রীদের তিনটি কাঠের ট্রলারে করে সেন্ট মার্টিনে পাঠানো হয়েছে। সবাই নিরাপদে পৌঁছেছেন। পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হলে আগের মতো নিয়মিত যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল শুরু হবে।”


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









