সুনামগঞ্জ জেলায় গত কয়েকদিনের প্রবল বর্ষণের কারণে বন্যা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটছে। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে পানি বেড়ে বিশ্বম্ভপুর উপজেলার শক্তিয়ারখলা সড়ক ডুবে জেলা সদরের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। সড়ক ডুবে যাওয়া যোগাযোগের ভোগান্তিতে রয়েছে এলাকাবাসী। অভিযোগ উঠেছে বন্যার অজুহাত দেখিয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন পরিবহন শ্রমিকরা।
তবে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছেন অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কোনো সুযোগ নেই, প্রয়োজনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
এ দিকে জেলার ছাতক পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ১৫ সে:মি উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে মার্কুলী পয়েন্টে কুশিয়ারা নদীর পানি কমে বিপদসীমার ৭ সে:মি উপরে রয়েছে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সুত্রে জানা যায়, জেলার দুটি পয়েন্ট ছাড়া প্রধান নদীগুলোর পানির স্তর বিপদসীমার খুব কাছাকাছি। আর ছাতক ও মার্কুলী পয়েন্টে বিপদ সীমা অতিক্রম করেছে। এর মধ্যে ছাতক পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি ১৫ সে:মি ও মার্কুলী পয়েন্টে ৭ সে:মি উপরে রয়েছে। ছাতক অঞ্চলে বিগত ২৪ ঘন্টায় সর্বোচ্চ ১২৫.০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তাহিরপুর উপজেলার লাউরেরগড় স্টেশনে যাদুকাটা নদী এলাকায় এখানে গত ২৪ ঘন্টায় সর্বোচ্চ ১৫৭.০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা নতুন করে বন্যা প্লাবনের প্রবল ঝুঁকি তৈরি করেছে। গত রাত ৬টার পর থেকে এখানে পানির স্তর উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী (পওর-২) এমদাদুল হক বলেন, “সার্বিকভাবে, ছাতক পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেছে এবং লাউরেরগড় সহ সুনামগঞ্জ সদরে পানি বিপদসীমার খুব কাছাকাছি পৌঁছানোয় জেলাজুড়ে বড় ধরণের বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাই নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি দ্রুত আরও অবনতি হতে পারে বলে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে সতর্ক করা হয়েছে।”


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









