টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বৃদ্ধি পাওয়া তিস্তা নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে নেমে এসেছে। এতে তাৎক্ষণিকভাবে নতুন করে বন্যার শঙ্কা কিছুটা কমলেও নিম্নাঞ্চলের পানিবন্দী মানুষের দুর্ভোগ এখনো কাটেনি।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডালিয়া ডিভিশন সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি সমতল রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ১০ মিটার, যা এ পয়েন্টের বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটারের ৫ সেন্টিমিটার নিচে। এর আগে সকাল ৯টায় পানি ছিল ৫২ দশমিক ১৯ মিটার (বিপৎসীমার ৪ সেন্টিমিটার ওপরে) এবং সকাল ৬টায় ছিল ৫২ দশমিক ২২ মিটার (বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপরে)। সোমবার রাত ১০টায় পানির উচ্চতা পৌঁছেছিল ৫২ দশমিক ২৫ মিটারে, যা বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপরে ছিল।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডালিয়া ডিভিশনের তিস্তা নদীর পানি পরিমাপক নুরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, রাতভর তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিস্তা ব্যারেজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছিল। ভোর থেকে উজানের ঢল কমতে শুরু করায় নদীর পানিও ধীরে ধীরে নেমে আসে এবং দুপুরে বিপৎসীমার নিচে প্রবাহিত হতে শুরু করে।
এদিকে পানি বৃদ্ধির ফলে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ী, টেপাখড়িবাড়ী, খালিশা চাপানী, ঝুনাগাছ চাপানী ও গয়াবাড়ী ইউনিয়ন এবং জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা, ডাউয়াবাড়ী ও শৌলমারী ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। অনেক ঘরবাড়িতে এখনো বানের পানি রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ খান জানান, তার ইউনিয়নের ঝাড়সিংহেশ্বর ও পূর্ব ছাতনাই গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে প্রায় ১ হাজার ২০০ পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।
টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহিন বলেন, তিস্তার পানি বৃদ্ধিতে চরাঞ্চলের প্রায় ১ হাজার ৩৫০ পরিবার পানিবন্দী রয়েছে। পানি কমতে শুরু করলেও অনেক এলাকায় এখনো মানুষের দুর্ভোগ অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। নদীর পানি আরও কমতে থাকলে প্লাবিত এলাকার পানি দ্রুত নেমে যাবে বলে সংশ্লিষ্টদের আশা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









