গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলায় বন্যা ও যমুনা নদীর তীব্র ভাঙনে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। উপজেলার ফজলাপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বুবুলির চর ও খাটিয়ামারী চরে নদীভাঙনে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। চলমান বন্যার মধ্যেই গত কয়েকদিনে প্রায় ৪০০টি পরিবার নিজেদের ভিটেমাটি হারিয়ে সম্পূর্ণ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন।
সরেজমিনে চরাঞ্চল ঘুরে দেখা গেছে, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বর্ষণে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে তীব্র স্রোত দেখা দিয়েছে। আর এই প্রমত্তা স্রোতের আঘাতেই তাসের ঘরের মতো নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে বুবুলির চর ও খাটিয়ামারী চরের একের পর এক বসতভিটা, ফসলি জমি ও গাছপালা। বন্যাকবলিত অবস্থায় ঘরবাড়ি ভেঙে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফসলি জমি হারিয়ে ইতিমধ্যেই নিঃস্ব হয়েছেন শত শত মানুষ। মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকু হারিয়ে গৃহহীন হয়ে পড়া ৪০০টি পরিবার এখন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, উঁচু রাস্তা কিংবা আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। অনেকে আবার কোনো উপায় না পেয়ে খোলা আকাশের নিচে পলিথিন টাঙিয়ে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এছাড়া নদী তীরবর্তী এলাকায় থাকা আরও শত শত পরিবার এখন তীব্র ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
"একদিকে ঘরের ভেতর বন্যার পানি, অন্যদিকে নদীর ভাঙন। কোনোরকমে জানটা নিয়া ঘরদোর ভাইঙা চইলা আসছি। এখন কোথায় যাব, কী খাব, কোনো ঠিক নাই। আমাদের দুর্ভোগের আর শেষ নাই।" আলম মোল্লা, স্থানীয় ভুক্তভোগী
বন্যা আর ভাঙনের দ্বৈত আঘাতে এই দুই চরের মানুষের মাঝে এখন তীব্র খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও জরুরি চিকিৎসার সংকট দেখা দিয়েছে। চরাঞ্চলের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ায় এবং চারদিকে পানি থৈ থৈ করায় এই দুর্ভোগ ও মানবিক সংকট আরও বহুগুণ বেড়ে গেছে। ভিটেমাটিহারা ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো অবিলম্বে যমুনার ভাঙন রোধে স্থায়ী ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। সেই সাথে খোলা আকাশের নিচে ও বাঁধে আশ্রয় নেওয়া পরিবারগুলোর জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরুরি খাদ্য সহায়তা, বিশুদ্ধ পানি ও দ্রুত পুনর্বাসনের জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









