চলমান বন্যা পরিস্থিতি ও চরম বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে পরীক্ষা নেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনা না করার প্রতিবাদে কুষ্টিয়ায় উত্তাল হয়ে উঠেছে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীরা। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ, চলমান পরীক্ষা স্থগিতকরণ এবং গত ১৩ জুলাই প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীদের পুনরায় পরীক্ষা গ্রহণের সুযোগ দেওয়ার দাবিতে কুষ্টিয়ায় বিক্ষোভ ও মহাসড়ক অবরোধ করেছে সাধারণ পরীক্ষার্থীরা।
বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরের পরীক্ষা শেষে কুষ্টিয়া শহরের ব্যস্ততম মজমপুর গেট এলাকায় সড়কের ওপর অবস্থান নেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শত শত পরীক্ষার্থী। এ সময় প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী সড়ক অবরোধের কারণে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ এবং কুষ্টিয়া-পাবনা মহাসড়কে সব ধরনের যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এতে সড়কের দুপাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে চরম জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়।
আজকের পূর্বনির্ধারিত পরীক্ষা শেষে দুপুর ১টার পর কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ, কুষ্টিয়া সরকারি মহিলা কলেজসহ শহরের বিভিন্ন কেন্দ্রের পরীক্ষার্থীরা দলে দলে মজমপুর গেট এলাকায় জড়ো হতে থাকেন। তারা বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দিতে শুরু করেন।
শিক্ষার্থীরা সড়কে বসে পড়ে তাদের তিন দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো- বন্যা ও দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের বাস্তবিক সংকট ও মানসিক চাপ বুঝতে ব্যর্থ হওয়ায় বর্তমান শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন তারা।
দেশের চলমান তীব্র বন্যা পরিস্থিতি এবং চরম বৈরী আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখতে হবে।
১৩ জুলাই সারাদেশে অতিবৃষ্টি ও চরম প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে যেসব পরীক্ষার্থী কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেনি বা পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি, তাদের জন্য বিশেষ বিবেচনায় পুনরায় পরীক্ষা গ্রহণের ব্যবস্থা করতে হবে।
আন্দোলনরত কয়েকজন শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “দেশের বিভিন্ন অঞ্চল যখন বন্যায় ভাসছে, যাতায়াতের রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে, তখন জোর করে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। গত ১৩ জুলাই প্রবল বৃষ্টির কারণে আমাদের অনেক সহপাঠী কেন্দ্রে আসতেই পারেনি। তাদের এই শিক্ষাজীবন ধ্বংসের দায় কে নেবে? দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়ব না।”
এদিকে কুষ্টিয়া শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থার মূল প্রাণকেন্দ্র মজমপুর গেট অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় মুহূর্তের মধ্যে পুরো শহর অচল হয়ে পড়ে। কুষ্টিয়া-পাবনা-ঢাকা এবং কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়কের সংযোগস্থল হওয়ায় এই রুটে চলাচলকারী দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী ট্রাক ও জরুরি সেবার যানবাহনগুলো আটকা পড়ে।
মহাসড়কের দুপাশে প্রায় ২ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ সময় তীব্র গরমে বাসের মধ্যে আটকে থেকে চরম ভোগান্তিতে পড়েন নারী, শিশু ও রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সগুলো। অনেক যাত্রীকে বাধ্য হয়ে গাড়ি থেকে নেমে পায়ে হেঁটে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দিতে দেখা যায়।
শিক্ষার্থীদের আকস্মিক অবরোধের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশ ও ট্রাফিক বিভাগের সদস্যরা। তবে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ অত্যন্ত ধৈর্য ও সতর্কতার সাথে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়।
পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলেন এবং তাদের দাবিগুলো প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেন। পরে পরীক্ষার্থীরা বিক্ষোভ কর্মসূচি শেষে চলে যান।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









