শেরপুরের নকলা উপজেলায় মৃগী নদীর পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে তীব্র হয়ে উঠেছে নদীভাঙন। এতে উপজেলার চন্দ্রকোনা ইউনিয়নের চরমধুয়া গ্রামটি ক্রমেই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। গত এক সপ্তাহে নদীর পেটে গেছে অন্তত ৩৭টি ঘরবাড়ি, বিস্তীর্ণ আবাদি জমি ও গ্রামীণ রাস্তাঘাট। ফলে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদীপাড়ের শত শত মানুষ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এক সপ্তাহের ভাঙনে ইতোমধ্যে গ্রামের অন্তত ৩৭টি বাড়ি ও প্রায় অর্ধশত একর ফসলি জমি নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে। গ্রামের যোগাযোগের একমাত্র কাঁচা সড়কটির একাংশও বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে ভাঙনের মুখে রয়েছে আরও চার শতাধিক বসতভিটা, মসজিদ, মাদ্রাসা, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কমিউনিটি মেডিকেল সেন্টারসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থাপনা।
ভাঙনে শেষ সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন বহু পরিবার। পাঁচ বছরে দুইবার বাড়ি হারিয়ে এখন গৃহহীন চরমধুয়া গ্রামের বিধবা খাদিজা বেগম। তিনি বলেন, "নদী আমার সব শেষ করে দিছে। তিনদিন আগে শেষ ঘরডাও ভাইঙ্গা গেছে। এখন পোলাপান নিয়ে অন্যের বাড়িতে জোর করে আছি। স্বামী ঘোড়ার গাড়ি চালায়, যা পায় তা দিয়ে কোনোমতে সংসার চলে। এখন কই যাব, আল্লাহই ভালো জানেন।" একই গ্রামের বৃদ্ধ কুবেদ আলী ও মাহমুদা বেগম আক্ষেপ করে বলেন, "ভোটের সময় সবাই নদী বাঁধের কথা বলে, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না। আমরা গরিব মানুষ, বারবার বাড়ি সরানোর টাকা কই পাব? আমরা সরকারের কাছে দ্রুত একটা স্থায়ী বাঁধ চাই।"
এ বিষয়ে শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুদীপ্ত চৌধুরী জানান, "মৃগী নদীর ভাঙনকবলিত এলাকা আমরা পরিদর্শন করেছি। ভাঙন রোধে আপাতত তাৎক্ষণিক কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আর স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জন্য প্রাক্কলন (বাজেট) তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই দ্রুত স্থায়ী কাজ শুরু করা হবে।"


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









