দেশের অন্যতম বৃহৎ আম উৎপাদন ও বিপণন কেন্দ্র নওগাঁর সাপাহার আম বাজারে পচা ও নষ্ট আমের স্তূপ এখন স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের জন্য প্রধান দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাজারের বিভিন্ন স্থানে যত্রতত্র ফেলে রাখা হাজার হাজার পচা আম থেকে ছড়াচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ। এতে একদিকে যেমন পরিবেশ দূষিত হচ্ছে, অন্যদিকে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বাজারে আসা আমচাষি, ব্যবসায়ী, পথচারী এবং বাজারসংলগ্ন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।
সরেজমিনে বাজার এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বাজারের ভেতরের বিভিন্ন গলি, প্রধান সড়ক ও সংযোগ সড়কের পাশে স্তূপ করে ফেলে রাখা হয়েছে বিপুল পরিমাণ পচা আম। দীর্ঘদিন ধরে এসব বর্জ্য অপসারণ না করায় আমগুলো পচে-গলে একাকার হয়ে গেছে। বাজারে আসা সাধারণ মানুষকে নাক চেপে চলাচল করতে হচ্ছে। পচা আমের এই বিশাল স্তূপে জন্ম নিচ্ছে ঝাঁকে ঝাঁকে মাছি, মশা ও নানা ধরনের রোগবাহী পোকামাকড়। এর ফলে এলাকাটিতে ডায়রিয়া, জন্ডিস, চর্মরোগ ও শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।
বাজারে আম বিক্রি করতে আসা মাইপুর গ্রামের আমচাষি হারুনুর রশীদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "ভ্যানভর্তি আম নিয়ে বিক্রির আশায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। কিন্তু পচা আমের এত তীব্র দুর্গন্ধ যে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকাই কষ্টকর। ক্রেতারাও দুর্গন্ধের কারণে আমের ভ্যানের কাছে আসতে চান না। এতে আমাদের বিক্রি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।"
পথচারী মাহমুদুল হাসান বলেন, "এটি দেশের অন্যতম বড় আমের বাজার। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এখানে ব্যবসায়ীরা আসেন। অথচ বাজারের প্রবেশমুখেই পচা আমের স্তূপ! এতে বাইরের জেলার মানুষ সাপাহার সম্পর্কে একটি বিরূপ ধারণা নিয়ে ফিরে যাচ্ছেন।" অন্যদিকে বাজারসংলগ্ন বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকেরা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। প্রতিদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের সময় পচা আমের দুর্গন্ধে দম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয় শিক্ষার্থীদের।
জানতে চাইলে সাপাহার আম আড়ৎ সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইমাম হোসেন রিফাত বলেন, "আমের মৌসুমে প্রতিদিন শত শত টন আম বাজারে আসে। স্বাভাবিকভাবেই কিছু আম নষ্ট বা পচে যায়। আমাদের স্থায়ী বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য নির্দিষ্ট ডাম্পিং স্টেশন প্রয়োজন। দ্রুত বর্জ্য অপসারণের বিষয়ে আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় করছি।"
বিষয়টি নিয়ে সাপাহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রোমানা রিয়াজ বলেন, "বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের সুরক্ষার বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। বাজারে জমে থাকা পচা আম দ্রুত অপসারণ এবং নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই প্রয়োজনীয় ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









