গাজীপুরের কালীগঞ্জে মাদকবিরোধী সামাজিক উদ্যোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। মাদক নির্মূল কমিটির সদস্যদের ওপর হামলার চেষ্টা, গুলিবর্ষণ, প্রাণনাশের হুমকি এবং চাঁদা দাবির অভিযোগ তুলে কয়েকজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনের বিরুদ্ধে কালীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
এ ঘটনায় অভিযুক্তদের মধ্যে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মাসুদুল হাসান শামীমকে বুধবার (১৫ জুলাই) আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) উপজেলার মোক্তারপুর ইউনিয়নের নোয়াপাড়া এলাকায় গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ ওঠে। কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মোক্তারপুর ইউনিয়নের পোটান গ্রামের মো. মাহফুজুর রহমান নাইমের দায়ের করা ওই অভিযোগে রুহুল আমিন, তার ছেলে আবিদ, শাহিন, সেলিম, মাসুদুল হাসান শামীম এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০-২৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কালীগঞ্জে মাদকের বিস্তার রোধে মোক্তারপুর ইউনিয়নের নোয়াপাড়া, বড়হড়া ও পোটান গ্রামের বাসিন্দাদের সমন্বয়ে একটি মাদক নির্মূল কমিটি গঠন করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় গত ১১ জুলাই নোয়াপাড়া গ্রামের রোমানকে ২০৫ পিস ইয়াবাসহ আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। ওই মামলায় রোমানের পাশাপাশি আবিদ ও শাহিনকেও আসামি করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, মামলা দায়েরের পর থেকেই পলাতক আসামি ও তাদের সহযোগীরা মাদক নির্মূল কমিটির সদস্যদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করতে থাকে। একপর্যায়ে মাদক ব্যবসার ক্ষতির অজুহাতে কমিটির সদস্যদের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। এ অবস্থায় গত ১৪ জুলাই বিকেলে নোয়াপাড়া চাররাস্তার মোড়ে প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হলে রুহুল আমিন ও আবিদের নেতৃত্বে একদল লোক এলাকায় মহড়া দেয় এবং এলোপাতাড়ি কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন বলেন, “মাদক, সন্ত্রাস কিংবা জনশৃঙ্খলা বিরোধী কোনো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









