নাটোরের বড়াইগ্রামে ৫ম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগে জামে মসজিদের এক মুয়াজ্জিনকে গ্রাম্য সালিশে জুতাপেটা ও ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার চান্দাই ইউনিয়নের ভান্ডারদহ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টির খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকা জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
ভুক্তভোগী মুয়াজ্জিনের নাম আবুল কালাম আজাদ। তিনি ভান্ডারদহ মধ্যপাড়া জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন ও আসর পরবর্তী মক্তবের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মক্তবে পড়তে আসা এক ছাত্রীকে বিয়ের প্রস্তাব দেন আবুল কালাম। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় বিএনপি ও যুবদল নেতাকর্মীসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা রোববার সন্ধ্যায় এক গ্রাম্য সালিশের আয়োজন করেন। সালিশে শুনানি শেষে মুয়াজ্জিনকে ৫০টি জুতার বাড়ি ও ৪০ হাজার টাকা জরিমানার সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ভরা মজলিশে তাঁকে জুতাপেটা করা হয়, যা নিয়ে ভুক্তভোগী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন এবং লোকলজ্জায় বাড়ি থেকে বের হতে পারছেন না।
ক্ষোভ প্রকাশ করে মুয়াজ্জিন আবুল কালাম আজাদ বলেন, "আমি কেবল বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলাম, কোনো কুপ্রস্তাব বা খারাপ আচরণ করিনি। সামান্য এই কারণে ভরা মজলিশে এভাবে জুতাপেটা করা হবে তা ভাবতে পারিনি। এখন মানুষের সামনে মুখ দেখাব কীভাবে?"
সালিশে উপস্থিত যুবদল নেতা কাজী মাহবুব হোসেন মাসুদ জানান, "রায়ে ৫০টি জুতার বাড়ির কথা বলা হলেও ৮-১০টির বেশি দেওয়া হয়নি। আর মেয়ের পরিবারকে সহায়তার জন্য ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।"
এ বিষয়ে বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনাটিতে এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









