সাতক্ষীরা শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ব্লিস হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুনের সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া ঘন কালো ধোঁয়ায় পুরো হাসপাতাল ভবন আচ্ছন্ন হয়ে পড়লেও দ্রুত রোগীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ায় এবং ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে আনায় কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। তবে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে গিয়ে ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েছেন ফায়ার সার্ভিসের ৮ থেকে ১০ জন সদস্য।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে শহরের পুরাতন সিবি হাসপাতাল, বর্তমান ব্লিস হাসপাতালের বেজমেন্টে থাকা একটি যন্ত্রে আগুন লেগে এ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, ঘটনার সময় হাসপাতালে ৫০ থেকে ৬০ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। তাদের মধ্যে আইসিইউর রোগী ও চারজন নবজাতকও ছিল। হাসপাতালের সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার বলেন, বেজমেন্টে আগুন লাগার বিষয়টি প্রথমে নিরাপত্তাকর্মী ফোন করে হাসপাতাল ব্যবস্থাপককে জানান। এরপর মুহূর্তের মধ্যেই পুরো ভবনে কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। দ্রুত চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীরা রোগীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন। আইসিইউর রোগী, নবজাতক এবং লিফটে আটকে থাকা ব্যক্তিদেরও নিরাপদে বের করে আনা সম্ভব হয়েছে।
ঘন ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে কয়েকটি কেবিনের রোগীর স্বজনেরা বাতাস প্রবেশের জন্য হাসপাতালের কাচ ভেঙে ফেলেন। এ সময় ভাঙা কাচে আহত হন হাসপাতালের সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। অভিযানের সময় ধোঁয়ার কারণে ফায়ার সার্ভিসের ৮ থেকে ১০ জন সদস্য অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁদের সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়েছে।
ঘটনার পরপরই সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদুর রহমান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরে সেখানে যান সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম।
এ ছাড়া জেলা বিএনপির নেতা এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিব ও অ্যাডভোকেট সৈয়দ ইফতেখার আলী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। সাতক্ষীরা সদর থানার ওসি মাসুদুর রহমান বলেন, “অগ্নিকাণ্ডে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। তবে ধোঁয়ার কারণে ফায়ার সার্ভিসের প্রায় ১০ জন সদস্য অসুস্থ হয়েছেন। তাঁদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ পরে নিরূপণ করা হবে।”
সাতক্ষীরার ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম জানান, আগুন আমাদের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে। কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। অগ্নিকাণ্ডের কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









