একটি মামলায় জেলহাজতে থাকা এক আসামিকে অন্য মামলায় গ্রেপ্তার (শোন অ্যারেস্ট) দেখানোর আবেদন করায় বরগুনার বেতাগী থানার এক তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে গৃহীত ব্যবস্থার অগ্রগতি আগামী ২৯ আগস্টের মধ্যে আদালতকে জানাতে বরগুনার পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে বরগুনার বেতাগী জি.আর. আমলী আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আনোয়ার হোসেন এ আদেশ দেন।
আদালতের আদেশে বলা হয়, জি.আর.-১৬/২০২৫ (বেতাগী) মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. নজরুল ইসলাম আসামি মো. সাইফুল ইসলাম বনি আমিনকে (৪১) ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। আদালত নথি পর্যালোচনা করে দেখতে পান, মামলার ঘটনার তারিখ ২০২৫ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু ওই আসামি অন্য একটি মামলায় সে বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০ মে পর্যন্ত টানা জেলহাজতে ছিলেন। ফলে ঘটনার সময় তিনি কারাগারে থাকা সত্ত্বেও তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ছাড়াই ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৭ (ক) ধারার বিধান লঙ্ঘন করে তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন।
আদেশে আদালত উল্লেখ করেন, এ ধরনের আবেদন একজন নাগরিকের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার চরম অপব্যবহারের শামিল। এছাড়া ওই আসামি হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মিস কেস নং-৩১৫৮৩/২০২৫-এ ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিনও পেয়েছিলেন।
এ ঘটনায় গত ২৯ জুলাই ২০২৬ তদন্তকারী কর্মকর্তাকে আদালতে হাজির হয়ে লিখিতভাবে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। জবাবে এসআই দাবি করেন, একটি গোপন সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে সরল বিশ্বাসে আবেদনটি করেছিলেন। সূত্রের দেওয়া তথ্য ভুল হওয়ায় অনাকাঙ্ক্ষিত এ ভুল হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “আসামি অন্য মামলায় কারাগারে ছিলেন এ তথ্য তার জানা ছিল না। এ জন্য তিনি আদালতের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং ভবিষ্যতে আরও সতর্ক থাকার অঙ্গীকার করেন।’’
তবে আদালত তার ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হননি। আদেশে বলা হয়, একজন দায়িত্বশীল তদন্তকারী কর্মকর্তা কেবল গোপন সূত্রের তথ্যের ওপর অন্ধভাবে নির্ভর করে আইনি পদক্ষেপ নিতে পারেন না। সূত্রের দেওয়া তথ্য যাচাই করা তার আইনগত ও পেশাগত দায়িত্ব। একজন ব্যক্তি কারাগারে থাকা সত্ত্বেও বিষয়টি নিশ্চিত না করে আদালতে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা তদন্ত কর্মকর্তার চরম গাফিলতি, দায়িত্বজ্ঞানহীনতা ও পেশাগত অদক্ষতার পরিচায়ক।
এ অবস্থায় তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বরগুনার পুলিশ সুপারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন আদালত। পাশাপাশি আগামী ২৯ আগস্টের মধ্যে গৃহীত ব্যবস্থার অগ্রগতি আদালতকে জানাতে বলা হয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









