তীব্র গরমের মধ্যে ঘন ঘন লোডশেডিং এবং দুর্বল মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সেবায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দারা। বিদ্যুৎ বিভ্রাটে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিক্ষাকার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি নেটওয়ার্ক সমস্যায় জরুরি যোগাযোগ, অনলাইন শিক্ষা ও ডিজিটাল লেনদেনেও তৈরি হয়েছে নানা প্রতিবন্ধকতা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শান্তিগঞ্জ উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার গ্রাহক রয়েছেন। উপজেলায় বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ২৮ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ৯ মেগাওয়াট বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। ফলে উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ থাকছে না। গ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে পরিস্থিতি আরও নাজুক বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিদ্যুৎ না থাকায় তীব্র গরমে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিশু ও বয়স্করা। বিদ্যুৎনির্ভর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও পড়েছেন আর্থিক ক্ষতির মুখে। ফ্রিজ, ফ্যান, কম্পিউটার, ফটোকপি ও প্রিন্টিংয়ের মতো যন্ত্রনির্ভর ব্যবসা ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুৎ এলেও অনেক সময় ভোল্টেজের ওঠানামায় বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন গ্রাহকরা।
উপজেলা সদরের এক ব্যবসায়ী বলেন, দিনে-রাতে কয়েক ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। বিদ্যুৎ এলেও ভোল্টেজ স্বাভাবিক না থাকায় ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে দোকান খোলা রেখেও কাঙ্ক্ষিত ব্যবসা করা সম্ভব হচ্ছে না।
এদিকে বিদ্যুৎ সংকটের পাশাপাশি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও প্রত্যন্ত এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সেবার দুর্বলতাও দীর্ঘদিনের বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। অনেক এলাকায় কল করতে একাধিকবার চেষ্টা করতে হয়। কোথাও ঘরের ভেতরে নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় না। আবার ইন্টারনেট সংযোগ থাকলেও গতি অত্যন্ত ধীর।
নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে শিক্ষার্থী, চাকরিপ্রার্থী, ব্যবসায়ী, কৃষক ও প্রবাসী পরিবারের সদস্যরা নিয়মিত যোগাযোগে সমস্যায় পড়ছেন। অনলাইনভিত্তিক শিক্ষা, চাকরির আবেদন, মোবাইল ব্যাংকিং, ডিজিটাল লেনদেন এবং সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন অনলাইন সেবা গ্রহণেও ভোগান্তি বাড়ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ এই উপজেলায় এখনো প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে মানসম্মত মোবাইল নেটওয়ার্ক নিশ্চিত হয়নি। একাধিক অপারেটরের সেবা থাকলেও অনেক এলাকায় কাঙ্ক্ষিত কাভারেজ পাওয়া যায় না। ফলে জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত যোগাযোগ করতেও বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে।
স্থানীয়দের মতে, বিদ্যুৎ ও নেটওয়ার্ক—দুই সেবার দুর্বলতা একসঙ্গে জনজীবনকে আরও কঠিন করে তুলেছে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সেবায়ও সমস্যা দেখা দিলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত বাধাগ্রস্ত হয়।
ভুক্তভোগীরা দ্রুত লোডশেডিং কমিয়ে নিরবচ্ছিন্ন ও স্থিতিশীল বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রত্যন্ত এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক কাভারেজ বাড়ানো, প্রয়োজনীয় সংখ্যক টাওয়ার স্থাপন এবং বিদ্যমান টাওয়ারগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন।
তাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিদ্যুৎ ও টেলিযোগাযোগ সেবার ঘাটতি চিহ্নিত করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিলে শান্তিগঞ্জবাসীর দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগের অবসান হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









