সিলেট বিভাগে জুনের তুলনায় জুলাই মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি বেড়েছে। জুলাইয়ে বিভাগের চার জেলায় ২৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩১ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৭৫ জন। নিহতদের মধ্যে ১৩ জনই মোটরসাইকেলের চালক ও আরোহী।
শনিবার (৮ আগস্ট) নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) সিলেট বিভাগীয় কমিটির প্রকাশিত জুলাই মাসের দুর্ঘটনা-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুন মাসে সিলেট বিভাগে ২৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৯ জন নিহত ও ৩৬ জন আহত হয়েছিলেন। অর্থাৎ জুনের তুলনায় জুলাইয়ে দুর্ঘটনার সংখ্যা সামান্য কমলেও প্রাণহানি ও আহতের সংখ্যা বেড়েছে।
জুলাইয়ে বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে সিলেট জেলায়। এ জেলায় ১৫টি দুর্ঘটনায় ১৫ জন নিহত ও ১৭ জন আহত হয়েছেন। হবিগঞ্জে পাঁচটি দুর্ঘটনায় আটজন নিহত ও ৩২ জন আহত হয়েছেন। সুনামগঞ্জে চারটি দুর্ঘটনায় চারজন নিহত ও ১৪ জন আহত হয়েছেন। একইভাবে মৌলভীবাজারে চারটি দুর্ঘটনায় চারজন নিহত ও ১২ জন আহত হয়েছেন।
নিসচার প্রতিবেদনে সড়ক দুর্ঘটনার কয়েকটি প্রধান কারণও উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো, ট্রাফিক নিয়ম না মেনে ওভারটেকিং, মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীদের মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার না করা, পথচারীদের অসচেতনতা এবং সড়ক নির্মাণে ত্রুটি।
দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, জুলাইয়ে নয়টি দুর্ঘটনায় ১৩ জন মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী নিহত হয়েছেন। সিএনজি ও টমটমের চালক ও আরোহী নিহত হয়েছেন ছয়জন। আটটি দুর্ঘটনায় নয়জন চালক এবং ছয়টি দুর্ঘটনায় ছয়জন পথচারী প্রাণ হারিয়েছেন।
নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়ি উল্টে যাওয়ার পাঁচটি দুর্ঘটনায় ছয়জন নিহত হয়েছেন। সাতটি মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনায় প্রাণ গেছে আটজনের। এ ছাড়া গাছ ও বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে গাড়ির ধাক্কায় দুটি দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন।
জুলাইয়ে নিহত ৩১ জনের মধ্যে ২৫ জন পুরুষ, দুজন নারী ও চারজন শিশু।
নিসচার সিলেট জেলার আহ্বায়ক জহিরুল ইসলাম মিশু জানান, পাঁচটি স্থানীয় দৈনিক ও অনলাইন পত্রিকা, দুটি জাতীয় দৈনিক, অনুমেয় অনুজ্জ্বল বা অপ্রকাশিত ঘটনা এবং নিসচার সিলেটের শাখা সংগঠনগুলোর তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনটি বলছে, সিলেট জেলায় দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি সবচেয়ে বেশি হলেও সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে দুর্ঘটনার সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম ছিল। তবে বিভাগের সামগ্রিক চিত্রে জুলাই মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি বৃদ্ধির বিষয়টি উদ্বেগজনক।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









