শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, কাবিননামায় প্রতারণা, মালামাল আটকে রাখা, পরকীয়া এবং হুমকির অভিযোগ এনে স্বামী ও তার শ্বশুড়-শ্বাশুড়ির বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সোনিয়া আক্তার নামে এক নারী।
শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে টাঙ্গাইল পৌর শহরের বটতলায় প্রিন্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন তিনি।
ভুক্তভোগী সোনিয়া আক্তার টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার পশ্চিমপাড়া এলাকার নজরুল মিয়ার মেয়ে। তার স্বামী শাহিন মিয়া দেলদুয়ার উপজেলার চণ্ডী ইউনিয়নের পাথরাইল এলাকার ছানোয়ার হোসেনের ছেলে। সোনিয়া ও শাহিন প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে তারা বিয়ে করেন।
সোনিয়া আক্তার অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকেই তার স্বামী শাহিন, শ্বশুর-শাশুড়ি, ননদসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা তাকে বিভিন্ন সময় শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছেন। একপর্যায়ে তাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়।
তিনি দাবি করেন, শ্বশুরবাড়িতে তার প্রায় ৩ লাখ টাকা মূল্যের আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল রয়েছে। এর মধ্যে ল্যাপটপ, মোবাইল ফোনসহ ব্যক্তিগত সামগ্রীর মূল্য প্রায় ১ লাখ টাকা এবং নগদ ৫০ হাজার টাকা রয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৫ লাখ টাকার অর্থ ও মালামাল সেখানে রয়েছে। এসব কিছুই আটকে রাখা হয়েছে
বিয়ের দেনমোহর নিয়েও প্রতারণার অভিযোগ করেন সোনিয়া। তার দাবি, বিয়ের সময় দেনমোহর ৩ লাখ টাকা নির্ধারণের কথা থাকলেও পরবর্তীতে কাবিননামা হাতে পাওয়ার পর সেখানে ৩০ হাজার টাকা লেখা দেখতে পান। কাজী ও স্বামীর পরিবারের লোকজনের যোগসাজশে দেনমোহরের পরিমাণ কম দেখিয়ে তার সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তার।
এছাড়া তার স্বামী বিভিন্ন নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িত বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করায় তাকে গালিগালাজ ও মারধর করা হতো বলে দাবি করেন সোনিয়া।
ভুক্তভোগী সোনিয়া আক্তার জানান, এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান।
সোনিয়া আক্তার আরও বলেন, আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। তার অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে সংবাদমাধ্যমে তুলে ধরে ন্যায়বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা চান।
এদিকে সোনিয়া আক্তারের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তার স্বামী শাহিন মিয়া। মুঠোফোনে কথা হওয়ার সময় তিনি দাবি করেন, সোনিয়াকে তিনি জোরপূর্বক বিয়ে করতে বাধ্য করা হয়। এখন তাকে ডিভোর্স দিয়ে দিয়েছি। তার সাথে এখন কোনো সম্পর্ক নেই বলেও জানান শাহিন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









