শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় জমিসংক্রান্ত বিরোধ ও পূর্ববিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত শহীদ জুনায়েত হোসেনের বসতবাড়ি ও কবরস্থানে হামলা, ভাঙচুর এবং ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগ করেছে তার পরিবার। এ ঘটনায় রাজনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু আলম ও তার অনুসারীদের দায়ী করেছেন শহীদ জুনায়েতের পরিবারের সদস্যরা।
অভিযোগ অস্বীকার করে চেয়ারম্যানের দাবি, শহীদ জুনায়েতের পরিবারের পক্ষের লোকজনই আগে তার ওপর হামলা চালিয়ে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে নড়িয়া উপজেলার রাজনগর ইউনিয়নের বিলদেওনিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রাজনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু আলমের সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত জুনায়েত হোসেনের বাবা শাহ আলম ফরাজী ও চাচা ইব্রাহিম ফরাজীর জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। জুনায়েত নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় চেয়ারম্যান আবু আলম ও তার কয়েকজন ভাইকে আসামি করা হয়েছে। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ আরও তীব্র হয়। এর আগেও তাদের মধ্যে একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয়রা জানান।
শুক্রবার রাতে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় কয়েকজন আহত হন এবং বাড়িঘর ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে।
শহীদ জুনায়েতের বাবা শাহ আলম ফরাজী বলেন, ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। পরে খবর পেয়ে জানতে পারেন, তার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়েছে। এর আগেও তার বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি। তার অভিযোগ, ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান আবু আলম ও আওয়ামী লীগের লোকজন বসে পরিকল্পনা করে এ হামলা চালিয়েছে।
অভিযোগ অস্বীকার করে রাজনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু আলম বলেন, জুনায়েতের পরিবারের সঙ্গে তাদের জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। জুনায়েত নিহত হওয়ার পর তিনি নিজে ঢাকায় গিয়ে তার মরদেহ নিয়ে এসেছেন এবং জানাজায় অংশ নিয়েছেন। এমনকি হাসপাতাল থেকে ডেথ সার্টিফিকেট সংগ্রহ ও প্রয়োজনীয় প্রত্যয়নপত্রও দিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
চেয়ারম্যান বলেন, ‘জুনায়েত হত্যা মামলায় আমার পাঁচ ভাইকে আসামি করা হয়েছে। আমরা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় এমনিতেই চাপে আছি। এরপরও কীভাবে আমরা শহীদ পরিবারের ওপর হামলা চালাব?’
তিনি আরও দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে এর আগে জুনায়েতের কবর ভাঙচুরের অভিযোগে মামলা করা হয়েছিল। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় পুলিশ তাকে ওই মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়েছে। তার অভিযোগ, ওই মামলায় পুনরায় তাকে আসামি করার দাবিতে শুক্রবার তার পরিষদ কার্যালয়ে এসে কয়েকজন তার ওপর হামলা চালায় এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে তার পক্ষের কয়েকজন আহত হয়েছেন।
নড়িয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুহাম্মদ মহিউদ্দিন মিরাজ বলেন, শুক্রবার স্থানীয় চেয়ারম্যানের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় দুইজনকে কোপানোর ঘটনাও ঘটে। পরে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, জুলাই শহীদের বিপক্ষের লোকজনকে প্রথমে মারধর করা হয়, ঘটনাটি অস্থায়ী ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ঘটে।
তিনি আরো বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









