প্রকাশিত এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলার সোনারায় উচ্চ বিদ্যালয় থেকে সাধারণ ও ভোকেশনাল— উভয় শাখাতেই উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, বিদ্যালয়টির জেনারেল (সাধারণ) শাখা থেকে চলতি বছর মোট ১২৮ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। এর মধ্যে পাস করেছে ৯০ জন এবং অনুত্তীর্ণ হয়েছে ৩৮ জন শিক্ষার্থী। জেনারেলে পাসের হার ৭০.৩১ শতাংশ।
অন্যদিকে, ভোকেশনাল শাখা থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৫৩ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৪৮ জন এবং অনুত্তীর্ণ হয়েছে ৫ জন। ফলে ভোকেশনাল শাখায় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৯০.৫৬ শতাংশ।
বিজ্ঞান শাখা থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হওয়া শিক্ষার্থী সাদমান আফিফ তার অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, “এমন সুন্দর ফলাফলে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। এই সাফল্যের পেছনে আমার মা-বাবা এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অসামান্য অবদান রয়েছে। শিক্ষকরা আমাদের নিয়মিত সঠিক দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। ভবিষ্যতে একজন ভালো মানুষ হয়ে দেশের সেবা করতে চাই।”
মানবিক শাখা থেকে সফলতা অর্জনকারী শিক্ষার্থী ইয়াসরা ওয়াদুদ তার অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, “পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত ও কৃতজ্ঞ। স্যারদের নিয়মিত পরামর্শ ও ক্লাস পরীক্ষার কারণে আমাদের প্রস্তুতি খুব ভালো হয়েছিল। এই ফলে আমার মা-বাবা ও শিক্ষকরা অনেক খুশি হয়েছেন, এটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। আগামীতে উচ্চশিক্ষায় আরও ভালো ফল করতে চাই।”
বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি প্রফেসর আব্দুর রউফ এই ফলাফলে গভীর সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের সোনারায় উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকমণ্ডলীর সঠিক দিকনির্দেশনা ও শিক্ষার্থীদের নিয়মিত প্রচেষ্টার ফলেই এই ফলাফল অর্জিত হয়েছে। ভালো ফল করা সকল শিক্ষার্থীকে আমি আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই। বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের পক্ষ থেকে শিক্ষার মান আরও বৃদ্ধি এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে, যাতে আগামীতে ফলাফলের এই ধারাবাহিকতা আরও উজ্জ্বল হয়।”
ফলাফলে সন্তোষ প্রকাশ করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রমনী কান্ত রায় বলেন, “শিক্ষকদের কঠোর পরিশ্রম, অভিভাবকদের সচেতনতা এবং শিক্ষার্থীদের নিষ্ঠার ফলেই আজকের এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। ভোকেশনাল ও জেনারেল দুই বিভাগেই আমাদের শিক্ষার্থীরা ভালো করেছে। যারা পাস করেছে তাদের অভিনন্দন জানাই এবং যারা কৃতকার্য হতে পারেনি তাদের আগামীতে আরও ভালো করার জন্য আমরা বিশেষ যত্ন নেব।”
ফলাফল মূল্যায়ন করে বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক গোলাম রব্বু বলেন, “সারা দেশের সার্বিক পাসের হারের তুলনায় আমাদের বিদ্যালয়ের ফলাফল যথেষ্ট আশাব্যঞ্জক। বিশেষ করে ভোকেশনাল শাখার সাফল্য চোখে পড়ার মতো। নিয়মিত পাঠদান, বিশেষ ক্লাস ও পরীক্ষা নেওয়ার কারণেই শিক্ষার্থীরা এই ফল অর্জন করতে পেরেছে। আগামী বছরগুলোতে যেন আমরা শতভাগ সাফল্য অর্জন করতে পারি, সেই লক্ষ্যে শিক্ষকরা আরও আন্তরিকভাবে কাজ করে যাবেন।”
বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ ও শিক্ষকমণ্ডলী কৃতকার্য সকল শিক্ষার্থীদের আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









