রাজশাহী নগরের নামোভদ্রা লেকপাড় বস্তিসহ বিভিন্ন বস্তিতে বসবাসরত ভূমিহীন ও নিম্ন আয়ের মানুষদের পুনর্বাসন নিশ্চিত না করে বস্তি উচ্ছেদ বন্ধের দাবিতে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে নামোভদ্রা বাস্তুহারা সার্বিক উন্নয়ন সংগঠন, বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরাম ও গ্রিন কোয়ালিশনের একটি প্রতিনিধিদল রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কাছে এ স্মারকলিপি দেয়। বিভাগীয় কমিশনারের পক্ষে স্মারকলিপি গ্রহণ করেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার শাহানা আক্তার জাহান। পরে স্মারকলিপির অনুলিপি রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের কাছে দেওয়া হয়।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, উন্নয়ন ও নগর ব্যবস্থাপনার নামে কোনো মানুষকে গৃহহীন করা যায় না। সংবিধান, মানবাধিকার এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার আলোকে প্রত্যেক নাগরিকের মর্যাদাপূর্ণ বাসস্থানের অধিকার রয়েছে। তাই পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে কোনো বস্তি উচ্ছেদ মানবিক, ন্যায়সঙ্গত ও টেকসই সমাধান হতে পারে না।
স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) বস্তি শুমারি ও ভাসমান লোকগণনা-২০১৪ অনুযায়ী রাজশাহী শহরে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ১০৪টি বস্তিতে ৩৯ হাজারের বেশি মানুষ বসবাস করতেন। বর্তমানে এ সংখ্যা প্রায় লাখে পৌঁছেছে বলে দাবি করা হয়। নদীভাঙন, খরা, বন্যা, ভূমিহীনতা, কর্মসংস্থানের সংকট ও দারিদ্র্যের কারণে এসব মানুষের বড় একটি অংশ গ্রাম থেকে নগরে এসে বসতি গড়েছেন।
তবে নগরে এসেও তারা নিরাপদ বাসস্থান, বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তার মতো মৌলিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে স্মারকলিপিতে দাবি করা হয়েছে।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, বস্তিবাসীদের অধিকাংশই রিকশাচালক, নির্মাণশ্রমিক, গৃহকর্মী, হকার, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, পরিবহন শ্রমিক ও দিনমজুর। তারা নগরের অর্থনীতি ও বিভিন্ন সেবাখাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ আবাসনের অধিকার থেকে বঞ্চিত।
রাজশাহীকে মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জলবায়ু সহনশীল টেকসই নগর হিসেবে গড়ে তুলতে নগর দরিদ্র জনগোষ্ঠীর নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
স্মারকলিপিতে ৫ দফা দাবি
১. পুনর্বাসন নিশ্চিত না করে নামোভদ্রা লেকপাড় বস্তিসহ রাজশাহীর কোনো বস্তি উচ্ছেদ করা যাবে না।
২. রাজশাহীর সকল বস্তিবাসীর জন্য নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও পরিবেশবান্ধব আবাসনের পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
৩. বস্তিবাসীদের পানি, স্যানিটেশন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা সেবা নিশ্চিত করতে হবে।
৪. উচ্ছেদ সংক্রান্ত যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ ও মতামত নিশ্চিত করতে হবে।
৫. নগর দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আবাসন অধিকারকে স্থানীয় ও জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনায় অগ্রাধিকার দিতে হবে।
স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করেন গ্রিন কোয়ালিশন রাজশাহী অঞ্চলের সভাপতি ও নদী-পরিবেশ গবেষক মাহবুব সিদ্দিকী, নামোভদ্রা বাস্তুহারা সার্বিক উন্নয়ন সংগঠনের সভাপতি মো. বাচ্চু মিয়া এবং বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি মো. আতিকুর রহমান।
এ ছাড়া পৃথক স্মারকলিপি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, ভূমি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব, ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন এবং রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. আবুল কালাম আজাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









