টানা তিন বছর ধরে নিম্নমুখী যশোর শিক্ষা বোর্ডের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল। ২০২৪ সালে যে বোর্ডে পাসের হার ছিল ৯২ দশমিক ৩২ শতাংশ, দুই বছর পর তা নেমে এসেছে ৬৬ দশমিক ২৭ শতাংশে। অর্থাৎ দুই বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ২৬ দশমিক ৫ শতাংশীয় পয়েন্ট।
শুধু পাসের হার নয়, ধারাবাহিকভাবে কমেছে জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যাও। ২০২৪ সালে ২০ হাজার ৭৬১ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেলেও ২০২৫ সালে তা কমে দাঁড়ায় ১৫ হাজার ৪১৯ জনে। এবার আরও কমে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১ হাজার ৪৭৮ জন। দুই বছরে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ৯ হাজার ২৮৩ জন।
সোমবার (১০ আগস্ট) এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর যশোর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম হোসেন আলী এসব তথ্য জানান।
ফলাফলের অবনতির কারণ হিসেবে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বলেন, ‘‘মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ কমিয়ে দিচ্ছে। এর পাশাপাশি ইংরেজি ও গণিতে শিক্ষার্থীদের দুর্বলতার কারণেও এবার পাসের হার কমেছে।’’ খাতা সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে এবং কাউকে অতিরিক্ত নম্বর দেওয়া হয়নি বলেও জানান তিনি।
বছর ঘুরে আরও পিছিয়ে যশোর বোর্ড
বোর্ডের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৪ সালে এসএসসিতে পাসের হার ছিল ৯২ দশমিক ৩২ শতাংশ। ২০২৫ সালে তা এক ধাক্কায় কমে দাঁড়ায় ৭৩ দশমিক ৬৯ শতাংশে। এবার আরও কমে হয়েছে ৬৬ দশমিক ২৭ শতাংশ।
অর্থাৎ ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে পাসের হার কমেছিল ১৮ দশমিক ৬৩ শতাংশীয় পয়েন্ট। পরের এক বছরে আরও কমেছে ৭ দশমিক ৪২ শতাংশীয় পয়েন্ট।
জিপিএ-৫ এর চিত্রও একই। ২০২৪ সালে ২০ হাজার ৭৬১ জন, ২০২৫ সালে ১৫ হাজার ৪১৯ জন এবং ২০২৬ সালে ১১ হাজার ৪৭৮ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
৪৪ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারেনি
২০২৬ সালে যশোর শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ লাখ ৩২ হাজার ৯৪০ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৮৮ হাজার ৯৭ জন। অর্থাৎ ৪৪ হাজার ৮৪৩ জন শিক্ষার্থী এবার উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছেলে ৩৯ হাজার ৬৩৪ জন এবং মেয়ে ৪৮ হাজার ৪৬৩ জন।
অন্যদিকে, ২০২৫ সালে খুলনা বিভাগের ১০ জেলার ২ হাজার ৫৭৫টি বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৫১ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছিল ১ লাখ ২ হাজার ৩১৯ জন। উত্তীর্ণদের মধ্যে ছেলে ছিল ৪৬ হাজার ৫৮৭ জন এবং মেয়ে ৫৫ হাজার ৭৩২ জন।
ফল বিপর্যয়ে সামনে ইংরেজি-গণিত
যশোর শিক্ষা বোর্ডের ফলাফলের ধারাবাহিক অবনতিতে শিক্ষার্থীদের ইংরেজি ও গণিতে দুর্বলতার বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে। বোর্ড কর্তৃপক্ষের মতে, এসব বিষয়ে কাঙ্ক্ষিত দক্ষতা না থাকায় অনেক শিক্ষার্থী পরীক্ষায় ভালো করতে পারেনি।
এর সঙ্গে মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহারকেও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগ কমার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছে বোর্ড।
টানা ফল অবনতির এই চিত্রে এখন শিক্ষার মান, বিদ্যালয়ে পাঠদানের কার্যকারিতা, শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি এবং ইংরেজি-গণিতে দুর্বলতার কারণগুলো খতিয়ে দেখার প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়েছে। আগামী দিনে এই প্রবণতা ঠেকাতে বোর্ড ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো কী ধরনের কার্যকর উদ্যোগ নেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









