পটুয়াখালীর দশমিনায় বিএনপি নেতা মো. লেলিনের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার করা না হলে দশমিনা থানা ঘেরাওসহ কঠোর আন্দোলনের হুমকি দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার সচেতন নাগরিক সমাজের আয়োজনে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে উপজেলা শ্রমিক অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক মো. ইলিয়াস হোসেন রাকিব এ হুমকি দেন।
মানববন্ধনে ইলিয়াস হোসেন রাকিব বলেন, শান্তিপূর্ণ দশমিনায় নৈরাজ্য সৃষ্টি ও মাদক, চাঁদাবাজি এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রশাসনকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। বিএনপির নেতাকর্মীরাও যদি হামলার শিকার হন, তাহলে বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি দশমিনা উপজেলার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি এবং থানা ঘেরাও করা হবে বলেও তিনি জানান।
উপজেলা যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি কেএম ইমরান শাহিন বলেন, ৫ আগস্টের পর দেশে মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করবে,এটাই প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু কিছু চাঁদাবাজ, দখলবাজ ও মাদক ব্যবসায়ীর কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষের মধ্যে অশান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি প্রশাসনের প্রতি দ্রুত মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, দশমিনায় কেউ অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করলে সচেতন নাগরিক সমাজ তা মেনে নেবে না। এ সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচারেরও নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। মানববন্ধন থেকে পটুয়াখালী-৩ (দশমিনা-গলাচিপা) আসনের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বক্তারা বলেন, এলাকার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে তিনি যেন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক জুয়েল আমিন, উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের সহসভাপতি আফজাল হোসেন, দেলোয়ার পঞ্চায়েত, সাংগঠনিক সম্পাদক মিলন মাতুব্বরসহ উপজেলা বিএনপি, গণঅধিকার পরিষদের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মী এবং সচেতন নাগরিক সমাজের সদস্যরা।
এর আগে ২৪ আগস্ট রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে উপজেলার ২ নম্বর আলীপুর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য ও ওই ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. লেলিনকে কেন্দ্র করে উপজেলা যুবদলের সমর্থক তালহা তুহিনের সঙ্গে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রথমে কথাকাটাকাটি ও পরে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় লেলিন আহত হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে স্থানীয় গণঅধিকার পরিষদ ও বিএনপির নেতা-কর্মীরা তাকে উদ্ধার করে দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে পাঠান।
এ ঘটনায় লেলিনের পক্ষে তার বড় ভাইয়ের স্ত্রী মোসাম্মৎ আসমা বেগম ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ১০ জনের বেশি অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে দশমিনা থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন।
দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার একজন আসামিকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









