নীলফামারীর সৈয়দপুরে যাত্রীবাহী বাসের লকারে বিশেষ কৌশলে রাখা ২৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এ ঘটনায় সুলতানা রাজিয়া (৩৯) নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ভোরে সৈয়দপুর থানার নিয়ামতপুর এলাকার সুমনা ফিলিং স্টেশনের সামনে রংপুর-সৈয়দপুর মহাসড়কে অভিযানটি পরিচালনা করা হয়।
গ্রেপ্তার সুলতানা রাজিয়া নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের বাসিন্দা। তিনি ওই বাসের এফ-১ সিটের যাত্রী ছিলেন।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, নীলফামারী জেলা কার্যালয়ের উপপরিদর্শক মো. সাকিব সরকার বাদী হয়ে এ ঘটনায় সৈয়দপুর থানায় মামলা দায়েরের জন্য এজাহার দিয়েছেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি রেইডিং টিম ভোর সাড়ে ৪টার দিকে রংপুর-সৈয়দপুর মহাসড়কের সুমনা ফিলিং স্টেশনের সামনে অবস্থান নেয়। এ সময় মাওনা থেকে পঞ্চগড়গামী ‘স্টার ট্রাভেলস’ বাসটিকে সংকেত দিয়ে থামানো হয়।
পরে বাসের চালক মো. আফজাল হোসেন ও সুপারভাইজার সেবক বর্মনের উপস্থিতিতে এফ-১ সিটের নারী যাত্রী সুলতানা রাজিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে তার দেখানো মতে বাসের লকারে টোকেনযুক্ত দুটি ব্যাগ তল্লাশি করে গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার করা গাঁজার মধ্যে একটি অ্যাশ কালারের ট্রাভেল ব্যাগে সাতটি প্যাকেটে ১৮ কেজি ৮০০ গ্রাম এবং অপর একটি সিনথেটিক ব্যাগে দুটি প্যাকেটে ৫ কেজি ২০০ গ্রাম গাঁজা পাওয়া যায়। দুই ব্যাগ থেকে মোট ২৪ কেজি শুকনো গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
এ ছাড়া তার ব্যবহৃত একটি পুরোনো ওয়ালটন বাটন মোবাইল ফোন, একটি বাসের টিকিট ও দুটি টোকেন জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা আলামতের আনুমানিক মূল্য ১০ লাখ টাকা বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে ঘটনাস্থলেই সুলতানা রাজিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। উদ্ধার করা গাঁজার নয়টি প্যাকেট থেকে রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করে আলামত পৃথকভাবে সিলগালা করা হয়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এজাহারে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তার নারী বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে অবৈধ মাদকদ্রব্য গাঁজা বহন করছিলেন এবং বিভিন্ন এলাকার অজ্ঞাত ব্যক্তিদের কাছে অবৈধ মাদকদ্রব্য ক্রয়-বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
এ ঘটনায় সুলতানা রাজিয়ার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) ধারার সারণির ১৯(গ) ও ৪১ ধারায় মামলা রুজুর আবেদন করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত আলামত বর্তমানে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের হেফাজতে রয়েছে এবং পরবর্তীতে আদালতে উপস্থাপন করা হবে।
এ বিষয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, নীলফামারী জেলা কার্যালয়ের উপপরিদর্শক মো. সাকিব সরকার জানান, মাদকের বিরুদ্ধে জেলা ব্যাপী অভিজান অব্যাহত রয়েছে। এ ব্যাপারে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানান তিনি।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









