দুই দিন ধরে চারদিকে খোঁজ। বাড়ির আঙিনা থেকে শুরু করে গ্রামের অলিগলি-কোথাও পাওয়া যাচ্ছিল না সাড়ে পাঁচ বছরের শিশু বায়েজিদ মিয়াকে। স্বজনদের উৎকণ্ঠার মধ্যেই শনিবার সকালে ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে ভেসে উঠল তার নিথর দেহ। এতে মুহূর্তেই নিখোঁজ শিশুটিকে ঘিরে চলা অপেক্ষার অবসান হলেও পরিবারে নেমে আসে শোকের মাতম।
শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল ৮টার দিকে গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার ঘাগটিয়া ইউনিয়নের চরবাঘুয়া গ্রামের পাশ দিয়ে প্রবাহিত ব্রহ্মপুত্র নদে স্থানীয়রা একটি শিশুর লাশ ভাসতে দেখেন। পরে খবর পেয়ে স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি বায়েজিদ মিয়ার বলে শনাক্ত করেন।
বায়েজিদ চরবাঘুয়া গ্রামের মিজান মিয়ার ছেলে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে বাড়ি থেকে খেলতে বের হয়েছিল বায়েজিদ। এরপর আর বাড়িতে ফেরেনি সে। স্থানীয়রা জানান, ওই দিন দুপুর ১টার দিকে চরবাঘুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে খেলতে দেখা গিয়েছিল শিশুটিকে। এরপর থেকেই তার কোনো সন্ধান মিলছিল না।
বায়েজিদের সন্ধানে পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয়রাও বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজ করেও সন্ধান না পাওয়ায় বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।
নিহত শিশুটির চাচা মাহফুজুর রহমান জানান, শনিবার সকালে বাড়ি থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার পূর্বদিকে ব্রহ্মপুত্র নদে একটি শিশুর লাশ ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে তারা সেখানে গিয়ে লাশটি বায়েজিদের বলে শনাক্ত করেন।
ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ নদী থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করে।
কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাছির আহমেদ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটির লাশ উদ্ধার করেছে। প্রাথমিকভাবে লাশের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, বায়েজিদের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পানিতে পড়ে কিংবা সাঁতার কাটতে গিয়ে ডুবে শিশুটির মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
তিনি আরও জানান, ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফনের অনুমতি চেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছে। স্থানীয় নেতৃবৃন্দও এ বিষয়ে সুপারিশ করেছেন। আবেদনটি বিধি অনুযায়ী যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









