ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের কাছে একটি গুদামে রুশ ড্রোন হামলার পর ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৪২ জন। নিহতদের মধ্যে স্থানীয় এক মেয়রও রয়েছেন বলে শনিবার ইউক্রেনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
কিয়েভের আঞ্চলিক গভর্নর তিমুর তকাচেঙ্কো জানান, শুক্রবার রাতে কিয়েভের পশ্চিমে বুচা জেলার একটি গুদামে রুশ ড্রোন আঘাত হানে। এরপর সেখানে শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে এবং দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে। পরে আগুন আশপাশের আবাসিক ভবন ও একটি রেস্তোরাঁয়ও ছড়িয়ে যায়।
হামলায় অন্তত ৫০টি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানান তকাচেঙ্কো। নিরাপত্তার কারণে ওই এলাকা থেকে ৩৮০ জনের বেশি মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। নিহতদের মধ্যে দিমিত্রিভস্কা গ্রামের মেয়র তারাস দিদিচও রয়েছেন।
ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের দাবি, হামলার শিকার গুদামটিতে বিস্ফোরক সামগ্রী সংরক্ষণ করা হচ্ছিল। আবাসিক এলাকার এত কাছে এ ধরনের সামগ্রী কীভাবে রাখা হয়েছিল, তা নিয়ে ইতোমধ্যে প্রশ্ন উঠেছে।
ঘটনার পর তদন্ত শুরু করেছে ইউক্রেনের প্রসিকিউটররা। গুদামে বিস্ফোরক সামগ্রী রাখার জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতি ও সরকারি অনুমোদন ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের অপরাধমূলক অবহেলা করা হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, কিয়েভের কাছে মিলা গ্রামের একটি গুদামে রুশ হামলার পর বিস্ফোরণ ঘটে। আবাসিক এলাকার কাছাকাছি গোলাবারুদ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে স্পষ্ট বিধিনিষেধ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ঘটনায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের আওতায় তদন্ত করা হবে।
জেলেনস্কির ভাষায়, ‘‘বিধিনিষেধ রয়েছে—আবাসিক এলাকা বা বাড়ির কাছে গোলাবারুদ সংরক্ষণ করা যায় না।’’
ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী সের্হি কোরেতস্কি ঘটনাটিকে ‘অপরাধমূলক অবহেলা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান, এর আগে জুলাইয়ে কিয়েভের কাছে ভিশনেভে একটি গোলাবারুদ গুদামে প্রাণঘাতী হামলার পর পরিচালিত তদন্তেও গুরুতর অনিয়মের তথ্য পাওয়া গিয়েছিল। ওই তদন্তে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন একটি প্রতিষ্ঠান আবাসিক ভবন থেকে নিরাপদ দূরত্বে গোলাবারুদ সংরক্ষণের নিয়ম মানেনি বলে উঠে আসে।
কোরেতস্কি বলেন, যুদ্ধের পঞ্চম বছরে একই ধরনের ভুল বারবার হওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ঘটনার জন্য দায়ী প্রত্যেক ব্যক্তিকে কঠোর শাস্তির আওতায় আনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত দেশটির বিভিন্ন এলাকায় অন্তত দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ২৬৭টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে রাশিয়া।
গুদামে হামলার পাশাপাশি শনিবার রুশ হামলায় ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় ওদেসা এলাকায় একজন এবং কিয়েভের উপশহর বোরিসপিলে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরী নিহত হয়েছে বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
অন্যদিকে রাশিয়ার বেলগোরোদ অঞ্চলে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় অন্তত তিনজন নিহত ও নয়জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর।
এ ছাড়া রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণাধীন ক্রিমিয়ার সেভাস্তোপলে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় একজন নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন বলে সেখানকার রুশ নিয়োগকৃত গভর্নর জানিয়েছেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









