মাথার ওপর ভাঙা চাল। বৃষ্টি হলেই সেই চাল দিয়ে ঘরের ভেতর টপটপ করে পানি পড়ে। বৃষ্টির পানি ঠেকাতে ঘরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পাত্র বসিয়েও শেষ রক্ষা হয় না। এমন জরাজীর্ণ ঘরেই কষ্টে দিন কাটছে ময়মনসিংহের ত্রিশাল পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কেরানি বাড়ি মোড় এলাকার বাসিন্দা বৃদ্ধা সমেলা খাতুনের (ওরফে সবুজের মা)। বয়সের ভারে নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগলেও অভাবের কারণে ঠিকমতো চিকিৎসা করাতে পারছেন না তিনি।
শেষ বয়সে একটি টেকসই ঘর ও ফ্যামিলি কার্ড পেতে সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন এই বৃদ্ধা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৩০ বছর আগে সমেলা খাতুনের স্বামী সুরুজ আলী মারা যান। স্বামীর মৃত্যুর পর তিন ছেলে ও দুই মেয়েকে নিয়ে অনেক কষ্টে সংসার চালিয়েছেন তিনি। প্রায় ১০ বছর আগে তাঁর বড় ছেলে সবুজ মিয়াও মারা যান। অন্য ছেলে-মেয়েরা জীবিত থাকলেও তাঁরা নিজেরাই অভাব-অনটনের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। ফলে মায়ের ভরণপোষণের দায়িত্ব নেওয়াও তাঁদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
বর্তমানে সমেলা খাতুনকে নিজের খরচ চালানোর পাশাপাশি বড় ছেলে সবুজ মিয়ার রেখে যাওয়া এতিম মেয়েদের দেখাশোনা করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে পরিবারের বয়স্ক সদস্যদেরও দেখভাল করতে হয় তাঁকে। সব মিলিয়ে নানা সংকটের মধ্যেই তাঁর দিন কাটছে। সমেলা খাতুন জানান, বয়স্ক ভাতা ও বিধবা ভাতার জন্য আবেদন করলেও এখনো কোনো সুফল পাননি। তাঁর সামান্য ভিটেমাটি ও জমি থাকায় অনেক সময় প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা থেকেও বঞ্চিত হতে হয় বলে অভিযোগ তার। তবে ওই সম্পদ থেকে পরিবারের প্রয়োজন মেটানোর মতো আয় হয় না বলে দাবি করেন তিনি। কিন্তু ওষুধ কেনার মতো টাকা থাকে না। শুনেছি সরকার গরিব ও অসহায় মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড দিচ্ছে। সঠিক তদন্ত করে যদি আমাকে একটি ফ্যামিলি কার্ড ও থাকার উপযোগী একটি ঘর দেওয়া হয়, তাহলে শেষ বয়সে পরিবার নিয়ে একটু শান্তিতে থাকতে পারতাম।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









