বিদ্যুৎ চলে গেলেই গঙ্গাচড়া ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেমে আসে ভোগান্তি। বন্ধ হয়ে যায় নেবুলাইজার, ব্যাহত হয় অক্সিজেন সরবরাহ। জরুরি পরীক্ষা-নিরীক্ষাও থেমে যেতে পারে। বিশেষ করে রাতে এমন পরিস্থিতিতে রোগী ও স্বজনদের দুর্ভোগ বাড়ে। এই সংকট মোকাবিলায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে হাসপাতালটিতে হাইব্রিড সোলার আইপিএস স্থাপন করে পাশে দাঁড়িয়েছেন স্টেডফাস্ট কুরিয়ার সার্ভিস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কেএম রিদওয়ানুল বারী জিয়ন।
শনিবার (২৯ আগষ্ট) স্টেডফাস্ট কুরিয়ার সার্ভিস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কেএম রিদওয়ানুল বারী জিয়ন ব্যক্তিগত অর্থায়নে হাসপাতালটিতে আইপিএস প্রদান ও সংযোগ করেন। এর আর্থিক মূল্য প্রায় ৬ লাখ টাকা। আইপিএসটি সংযোগের পর পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, বিদ্যুৎ চলে গেলে নেবুলাইজার, অক্সিজেন সরবরাহসহ বিভিন্ন জরুরি সেবা ব্যাহত হয়। বিশেষ করে রাতে বিদ্যুৎ বিভ্রাট হলে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিতে চিকিৎসক ও নার্সদেরও নানা সমস্যায় পড়তে হয়। নতুন আইপিএস চালু হলে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যাকআপ পাওয়া যাবে। ফলে জরুরি চিকিৎসাসেবাগুলো সচল রাখা সহজ হবে।
আইপিএস স্থাপনের কাজে থাকা টেকনিশিয়ান ইঞ্জিনিয়ার আনিস রহমান বলেন, ‘হাসপাতালের জরুরি সেবা সচল রাখতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ প্রয়োজন। আইপিএস চালু হলে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যাকআপ পাওয়া যাবে। ফলে নেবুলাইজার, অক্সিজেন সরবরাহসহ জরুরি যন্ত্রগুলো চালু রাখা সহজ হবে।’ মায়ের জন্য সেবা নিতে আসা সদর ইউনিয়নের রাসেলুজ্জামান বলেন, ‘বিদ্যুৎ চলে গেলে হাসপাতালে রোগীদের খুব কষ্ট হয়। বিশেষ করে রাতে বিদ্যুৎ না থাকলে নানা সমস্যা দেখা দেয়। আইপিএস বসানো হয়েছে, এটা রোগীদের জন্য ভালো হয়েছে।’
কেএম রিদওয়ানুল বারী জিয়ন বলেন, ‘বিদ্যুৎ সংকটের কারণে রোগীদের যেন কষ্ট না হয়, সে চিন্তা থেকেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মানুষের কল্যাণে এ ধরনের কাজ অব্যাহত রাখার চেষ্টা করব। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোও জরুরি। বিশেষ করে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াতে পারলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপও কমবে।’
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলিমুল বাশার বলেন, ‘জিয়ন সাহেবের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় চিকিৎসাসেবা পরিচালনায় নানা সমস্যায় পড়তে হয়। তার এই উদ্যোগের ফলে বিদ্যুৎ চলে গেলেও হাসপাতালের জরুরি সেবাগুলো সচল রাখা সহজ হবে।’
আইপিএস স্থাপনের ফলে বিদ্যুৎ চলে গেলেও হাসপাতালের জরুরি সেবাগুলো সচল রাখার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন সংকটাপন্ন রোগীরা। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, আইপিএস সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ–সংকট মোকাবিলায় সহায়তা করবে; হাসপাতালের নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন স্থায়ী ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ব্যবস্থা।।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









