রংপুরের গঙ্গাচড়ার বড়বিল ইউনিয়নের দক্ষিণ পানাপুকুর এলাকায় সরকারি উদ্যোগে খনন করা পুকুরখুড়ী খালের পানি দূষিত হয়ে পড়েছে। পানিতে ভাসছে ময়লা-আবর্জনা, ছড়াচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বায়োএগ লিমিটেড নামের একটি ডিম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের বর্জ্য ও দূষিত পানি খালে পড়ছে। তবে প্রতিষ্ঠানটি এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। দূষণের উৎস নিয়ে এমন পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের মধ্যে দীর্ঘদিনেও খালটি দূষণমুক্ত না হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে, আসলে দূষণের উৎস কোথায়?
সোমবার সরেজমিনে দেখা যায়, পুকুরখুড়ী খালের পানির স্বাভাবিক রং নেই। পানিতে ময়লা-আবর্জনা ভাসছে। খালের বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানিতে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। পাশের সড়ক দিয়ে চলাচলের সময় অনেক পথচারীকে নাক-মুখ চেপে ধরতে দেখা যায়। খালের আশপাশের বাসিন্দারাও দুর্গন্ধের কারণে দুর্ভোগের কথা জানান।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে খালের পানি এভাবে দূষিত হয়ে আছে। তাদের দাবি, বায়োএগ লিমিটেড নামের ডিম উৎপাদনকারী একটি প্রতিষ্ঠানের বর্জ্য ও দূষিত পানি খালে এসে পড়ছে। এতে খালের পানি নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি আশপাশের পরিবেশেও দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে।
তবে বায়োএগ লিমিটেডের সুপারভাইজার কৌশিক এই অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রতিষ্ঠানের পানি বাইরে যায় না। খালে যে পানি দেখা যাচ্ছে, এগুলো আমাদের পানি নয়।’
খালের পাশে বসবাসকারী কালী রঞ্জন দাস বলেন, ‘গন্ধে এখানে কোনোভাবেই টেকা যায় না। বিশেষ করে শিশুদের নিয়ে খুবই দুশ্চিন্তায় আছি।’
আরেক বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘খালের পানি দূষিত হয়ে যাওয়ায় দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যা থাকলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। আমরা দ্রুত এর সমাধান চাই।’
খালের পাশের সড়ক দিয়ে চলাচলকারী ওমর ফারুক বলেন, ‘দুর্গন্ধে রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় দম বন্ধ হয়ে আসার মতো অবস্থা হয়। মাথা ঝিমঝিম করে। এর একটা নির্দিষ্ট বিহিত হওয়া উচিত।’
বড়বিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সামছুল হুদাও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে এর আগেও আমি কথা বলেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোনো সুরাহা পাইনি। বিষয়টি সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।’
দূষিত পানির কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন চিকিৎসকেরাও। শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. সিফাত বিনতে করিম বলেন, ‘দূষিত পানি থেকে বিভিন্ন ধরনের রোগ হতে পারে। শুধু শিশুদের জন্যই নয়, সব বয়সী মানুষের জন্যই এ ধরনের পানি ক্ষতিকর। দূষিত পানি ব্যবহারের ফলে ডায়রিয়া, কলেরাসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগ হতে পারে। এ ছাড়া ত্বকে বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণ ও ঘা হওয়ারও আশঙ্কা রয়েছে।’
স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশ্ন, সরকারি উদ্যোগে খনন করা একটি খাল দীর্ঘদিন ধরে দূষিত অবস্থায় পড়ে থাকলেও এর কারণ শনাক্ত করা হচ্ছে না কেন। কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে বর্জ্য বা দূষিত পানি খালে পড়লে তা বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না কেন, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তারা।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। খালের পানি দূষণের কারণ কী এবং কোথা থেকে দূষিত পানি আসছে, তা যাচাই করে দেখা হবে। পরিবেশের ক্ষতি হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, শুধু আশ্বাসে নয়, দ্রুত খালের পানি ও আশপাশের পরিবেশ পরীক্ষা করে দূষণের উৎস শনাক্ত করা হোক। একই সঙ্গে দূষণের জন্য দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে খালটি দূষণমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হোক।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









