ঢাকা থেকে কুড়িগ্রামগামী আন্তনগর ‘কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস’ ট্রেনে চলন্ত অবস্থায় ৪৪ বছর বয়সী এক নারী যাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ট্রেনের ক্যান্টিনবয় আবু বক্কর সিদ্দিককে (২২) গ্রেপ্তার করেছে সান্তাহার রেলওয়ে থানা পুলিশ। মামলায় ট্রেনের নিরাপত্তায় নিয়োজিত দুই অজ্ঞাতনামা পুলিশ সদস্যসহ মোট পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, সোমবার (৩১ আগস্ট) ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনটি চলাকালীন সময়ে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় ট্রেনটি নাটোর জেলার আওতাধীন এলাকা অতিক্রম করছিল।
মামলার এজাহারে বলা হয়, ওই নারী ভুলবশত কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসে উঠে পড়েন। পরে তাকে আসন পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে ট্রেনের খাবারের বগিতে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়। এ সময় ট্রেনে দায়িত্বে থাকা দুই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধেও তাঁকে হয়রানি ও ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ আনা হয়েছে।
ভুক্তভোগী নারীর চিৎকারে ট্রেনের অন্যান্য যাত্রীরা এগিয়ে এসে তাঁকে উদ্ধার করেন এবং অভিযুক্ত ক্যান্টিনবয় আবু বক্কর সিদ্দিককে আটক করে রেলওয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পরে ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে সান্তাহার রেলওয়ে থানা পুলিশ ট্রেনটি সান্তাহার স্টেশনে পৌঁছালে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার ও ক্যান্টিনবয়কে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃত আবু বক্কর সিদ্দিক নাটোরের লালপুর উপজেলার আব্দুলপুর গ্রামের বাসিন্দা। মঙ্গলবার সকালে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়।
আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে অভিযুক্ত আবু বক্কর ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন যে, ওই নারীর সঙ্গে তাঁর সম্মতিতে সম্পর্ক হয়েছিল।
এদিকে এ ঘটনায় ট্রেনের ভেতরের যাত্রীদের সার্বিক নিরাপত্তা, খাবারের বগির ব্যবহার এবং নিরাপত্তায় নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের সম্পৃক্ততা ও মামলার অন্য আসামিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে জোরদার তদন্ত চলছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









