শরীয়তপুরে একটি চুরি মামলার তদন্তে সংঘবদ্ধ চোরচক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রায় আট ভরি চোরাই স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১৬ লাখ টাকা।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলম।
পুলিশ জানায়, ২৩ আগস্ট রাত আনুমানিক ২টার দিকে পালং মডেল থানার গয়ঘর খলিফাকান্দি এলাকায় একটি বাড়ির তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে চোরচক্রের সদস্যরা। পরে একটি ট্রাংকের তালা ভেঙে নগদ ৩৪ হাজার ৫০০ টাকা এবং গলার হার, চেইন, কানের দুল, হাতের বালা-রুলি’সহ বিভিন্ন স্বর্ণালংকার চুরি করে নিয়ে যায়। চুরি হওয়া স্বর্ণালংকারের মূল্য প্রায় ১৫ লাখ ১৪ হাজার ৫০০ টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় ২৭ আগস্ট পালং মডেল থানায় মামলা হলে তদন্তে নামে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চোরচক্রের সদস্যদের অবস্থান শনাক্ত করে একই দিন শৌলপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—নড়িয়া উপজেলার বিল দেওয়ানিয়া এলাকার আতাহার মাদবর (৩৬), পালং মডেল থানার গয়ঘর খলিফাকান্দি এলাকার সুমন সরদার (৩০), মো. রুবেল বেপারী (৩০), মো. সাগর খলিফা (২৮), শিপলু খান (৪৫) ও সুমন পাল (৩২)।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার আতাহার মাদবরের দেওয়া তথ্য ও দেখানো মতে শৌলপাড়া বাজারের ‘সুস্মিতা শিল্পালয়’ নামের একটি স্বর্ণের দোকান ও তার বাসায় অভিযান চালানো হয়। পরে চোরাই স্বর্ণ কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া সুমন পালের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গঙ্গানগর স্বর্ণকার পট্টির ‘মা জুয়েলার্স’ ও তার বাসায় অভিযান চালানো হয়। এসব অভিযান থেকে চোরাই স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার হওয়া স্বর্ণালংকারের মধ্যে রয়েছে—একটি বড় চেইন, তিনটি মাঝারি চেইন, বিভিন্ন আকারের সাতটি আংটি, সাত জোড়া কানের দুল, একটি ব্রেসলেট/বেইচ লাইট, একটি গলার নেকলেস, একটি চেইনের লকেট এবং গলানো স্বর্ণের তিনটি অংশ।
পুলিশ আরও জানায়, মামলার আরেক আসামি রবিন খলিফা (২৭) পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তার এবং চুরি যাওয়া অবশিষ্ট স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পালং মডেল থানার ওসি মো. শাহ আলম বলেন, আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চোরাই স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গ্রেপ্তার ছয় আসামিকে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার ও বাকি মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









