বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কোনো ‘বট বাহিনী’ পরিচালনা করে না বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। তিনি বলেন, এ কারণে বিএনপির বিরুদ্ধে বট ব্যবহারের তথ্য তুলনামূলকভাবে কম পাওয়া যায়।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে শেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. রাশেদুল ইসলাম রাশেদের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রতিরোধে সরকার কাজ করছে। ফ্যাক্ট চেকিংয়ের ক্ষেত্রে শুধু ম্যানুয়াল পদ্ধতির ওপর নির্ভর না করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তথ্য যাচাইয়ের জন্য একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। অচিরেই এ বিষয়ে সংসদকে অবহিত করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এর আগে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বিদ্যমান প্রেস কাউন্সিলের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রকাশিত অপতথ্য বা বিভ্রান্তিকর সংবাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু অনলাইন মাধ্যমে প্রকাশিত এ ধরনের সংবাদের ক্ষেত্রে একইভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই।
নিজের একটি অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, সংসদে বসুন্ধরা মিডিয়ার বিরুদ্ধে তথ্যমূলক বক্তব্য দেওয়ার পর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তার বিরুদ্ধে ১০৯টি উদ্দেশ্যমূলক সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। এসব সংবাদ প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রকাশিত না হওয়ায় প্রেস কাউন্সিলে অভিযোগ করার সুযোগ পাননি বলেও জানান তিনি।
তিনি প্রশ্ন করেন, বিদ্যমান প্রেস কাউন্সিলকে যুগোপযোগী করা হবে কি না এবং অনলাইন মাধ্যমে ব্যক্তি আক্রমণ বা অপতথ্য ছড়ানোর ক্ষেত্রে কীভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে এ বিষয়ে আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে কি না, জানতে চান তিনি।
জবাবে তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, শুধু বিরোধী দলের সদস্যরাই অপতথ্য বা আক্রমণের শিকার হচ্ছেন—বিষয়টি এমন নয়। দেশের মা-বোনদের পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি দলের সদস্য, প্রধানমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের নিয়েও নানা ধরনের আক্রমণ ও অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, এসব বিষয়ে সরকার পদক্ষেপ নিচ্ছে। প্রেস কাউন্সিলকে নতুনভাবে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অনলাইন সংবাদমাধ্যমের বিষয়টিও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে বলে জানান তিনি।
অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রতিরোধে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, মিসইনফরমেশন ও ডিসইনফরমেশন কীভাবে প্রতিরোধ ও বন্ধ করা যায়, তা নিয়ে সরকার কাজ করছে। এ বিষয়ে বিভিন্ন দেশ কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে, সেগুলোও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে পরামর্শ করা হচ্ছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য মোকাবিলায় একটি কার্যকর কাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









