দশমিনায় ট্রান্সফরমার চুরি ঠেকাতে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে শিকল ও তালা লাগাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মো. রাকিব হোসেন (২৫) নামে এক যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে এ দুর্ঘটনা ঘটে। রাকিব ওই এলাকার বাসিন্দা জাকির ব্যাপারীর বড় ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, গত দেড় মাসে ওই এলাকায় দুটি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। একের পর এক ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এলাকাবাসী। চুরি ঠেকাতে আমারা নিরাপত্তার ব্যবস্থা করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানালেও তারা আমাদের ট্রান্সফরমারের খুঁটিতে শিকল দিয়ে তালা লাগিয়ে রাখার পরামর্শ দেওয়া। সেই পরামর্শ অনুযায়ী নিজেদের উদ্যোগে ট্রান্সফরমার নিরাপদ রাখার চেষ্টা করেন এলাকাবাসী।
রাকিব বৈদ্যুতিক খুঁটিতে উঠে ট্রান্সফরমারে শিকল দিয়ে তালা লাগানোর চেষ্টা করছিলেন। একপর্যায়ে বিদ্যুতের সংস্পর্শে এসে তিনি গুরুতরভাবে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন এবং খুঁটি থেকে নিচে পড়ে যান। এতে তার বুক, ডান চোখ ও বাম ঘাড়ে গুরুতর আঘাত লাগে। পড়ে দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করেন। পরে ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে করে তাকে দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়।
এখানে স্থানীয়দের মাঝে একটি প্রশ্ন জাগে, বিদ্যুতের মতো ভয়ংকর ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনায় তালা লাগানোর কাজ কি সাধারণ মানুষের?
স্থানীয়দের দাবি, চুরি যাওয়া দুটি ট্রান্সফরমারের প্রতিটির মূল্য প্রায় ১৫ হাজার টাকা করে মোট ৩০ হাজার টাকা। ট্রান্সফরমার চুরির কারণে এলাকার মানুষকে আর্থিক দায়ের মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাদের।
একাদিক এলাকাবাসীর অভিযোগের মূল কেন্দ্র এখন বিদ্যুৎ বিভাগের দায়িত্বশীলতা নিয়ে। নিরাপত্তাব্যবস্থার দায়িত্ব যদি কর্তৃপক্ষের হয়, তাহলে কেন একজন সাধারণ নাগরিককে জীবনবাজি রেখে সেই কাজ করতে হলো?
তাদের আরও দাবি, ভবিষ্যতে ট্রান্সফরমার চুরি ঠেকাতে কার্যকর নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং কোনোভাবেই সাধারণ মানুষকে বৈদ্যুতিক স্থাপনায় ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করতে দেওয়া যাবে না।
প্রত্যক্ষদর্শী মো. হাসান মিয়া জানান, বিগত দেড় মাসে আমাদের এলাকায় দুটি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। আমরা বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। তখন আমাদের বলা হয়, আপনারা খুঁটির ওপরে শিকল দিয়ে তালা লাগিয়ে রাখেন। সেই অনুযায়ী ট্রান্সফরমার চুরি বন্ধ করতে রাকিব সকালে নিরাপত্তা নিয়ে খুঁটিতে ওঠে। কিন্তু হঠাৎ বিদ্যুতের সংস্পর্শে এসে সে নিচে পড়ে যায়।
তিনি আরো বলেন, রাকিবের বুক, ডান চোখ ও বাম ঘাড়ে প্রচণ্ড আঘাত লেগেছে। শুধু একটি ট্রান্সফরমার চুরি ঠেকাতে গিয়ে আজ একটি তরতাজা জীবন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। সরকারি জিনিস চুরি হয়ে গেলে সেটি পুনরায় স্থাপন করা সরকারের দায়িত্ব। তাহলে সেই সরকারি সম্পদ রক্ষার জন্য সাধারণ মানুষ কেন নিজের জীবন ঝুঁকিতে ফেলবে? কেন গ্রামবাসীকে আর্থিক ক্ষতির বোঝা বহন করতে হবে?আমরা চাই , বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা উচিত।
দশমিনা উপজেলার সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম) মোঃ জাকির হোসেন জানান, বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমা নষ্ট হয়ে গেলে গ্রাহকদের ৫০% মূল্য দিয়ে আনতে হয়। আর আজকে রাকিব নামে যে ছেলেটা বিদ্যুৎ স্পষ্ট হয়ে দুর্ঘটনা হয়েছে সে বিষয়ে আমাদের জানা নেই।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









