লক্ষ্মীপুরে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার ঘটনায় বিএনপির ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের ৮১ জন নেতাকর্মীর নামে মামলা দায়ের করা হয়েছে। লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি ও কমলনগর) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজানের নির্দেশে উপজেলা বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতারা বাদি হয়ে শনিবার রাতে রামগতি থানায় এ মামলাগুলো দায়ের করেন।
এদিকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণাসহ তা বাস্তবায়নে আশরাফ উদ্দিন নিজানের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন এলাকার সচেতন মহল। তাদের ভাষ্য, উদ্যোগটি অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এটি চলমান থাকলে এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় থাকার পাশাপাশি সুশাসন প্রতিষ্ঠা হবে।
জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরদিন শুক্রবার এবং শনিবার উপজেলার চরপোড়াগাছা, রামদয়াল বাজার এবং আলেকজান্ডার ইউনিয়নের বালুরচর সুজনগ্রাম এলাকায় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা সংঘবদ্ধভাবে চড়াও হয়। তারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এলাকায় মহড়া দেয় এবং বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ইটভাটা মালিকদের কাছে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করে।
চরপোড়াগাছা ইউনিয়নের ছিদ্দিক উল্যাহর ইটভাটায় গিয়ে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা না পেয়ে তারা ইটভাটার শ্রমিকদের মারধর করে কাজ বন্ধ করে দেয় এবং মালিককে হত্যার হুমকি দেয়। এছাড়া ছাত্রদলের ২০ থেকে ২৫ জনের সংঘবদ্ধ একটি গ্রুপ রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্যে মহড়া দেয় এবং শক্তি প্রদর্শন করে। একপর্যায়ে ওই বাজারের ব্যবসায়ী মনিরের দোকানে ভাঙচুর চালায়। এতে ওই ব্যবসায়ীর ৫০ হাজার টাকা ক্ষয়-ক্ষতি হয়।
এসব ঘটনায় রামগতি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজ উদ্দিন ও উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মমিন উল্যাহ ইরাজ বাদী হয়ে শানিবার রাতে চররমিজ ইউনিয়ন বিএনপি সাধারণ সম্পাদক হাজী বেলাল উদ্দিন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শাহরিয়ার হান্নান, চররমিজ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মিরাজ হোসেন, চরপোড়াগাছা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম, চরআলগী ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. রাব্বি, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রায়হানসহ যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের ৮১ নেতাকর্মী নামে থানায় পৃথক দু’টি মামলা করেন।
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে রামগতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিটন দেওয়ান জানান, শনিবার রাতে থানায় মামলাগুলো দায়ের করা হয়। বিএনপি নেতার দায়ের করা মামলায় ২৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ২৫ জন এবং ছাত্রদল নেতার দায়ের করা মামলায় তিনজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, মামলা দায়েরের পর অভিযান চালিয়ে মিরাজ ও রিয়াজ নামে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোববার তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। অপর আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির সহ-শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক এবং লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, বিএনপি একটি সুশৃঙ্খল রাজনৈতিক দল। আমাদের নেতা তারেক রহমানের স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে, কোনো নেতাকর্মী অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হতে পারবে না। নির্বাচনের বিজয়কে পুঁজি করে যারা চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন চালাবে, তাদের দলে কোনো জায়গা নেই। অপরাধীর পরিচয় সে যে-ই হোক, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। আমি নিজেই ভুক্তভোগীদের পক্ষে মামলা করার নির্দেশ দিয়েছি। রামগতি কমলনগরের সর্বস্তরের মানুষের শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিএনপি বা সহযোগী সংগঠনের যে কেউ অপরাধ করবে আমরা কাউকে ছাড় দেব না। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করলে দল থেকে বহিষ্কারসহ যে কোনো শাস্তির আওতায় আনা হবে।
কাওছার আল হাবীব/এদিন


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









