চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার সীমান্ত এলাকায় পদ্মা নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজ হওয়া ১০ বাংলাদেশিকে জীবিত উদ্ধার করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। পরবর্তী সময়ে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাদের বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং রাতেই স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। তবে এ ঘটনায় মো. মোস্তফা (৬০) নামের আরও এক ব্যক্তি এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে জেলার বাখেরআলী এলাকার আলীমনগর ঘাট থেকে ১২ জন যাত্রী নিয়ে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা জহুরপুরটেক গ্রামের উদ্দেশে রওনা দেয়। পথিমধ্যে পদ্মা নদীতে নৌকাটি ডুবে যায়। দুর্ঘটনার পর মো. ওয়াসিম (২৩) নামের এক যাত্রী সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও বাকি ১১ জন নিখোঁজ হন।
সন্ধ্যা আনুমানিক ৫টা ৫০ মিনিটে ৭১ ব্যাটালিয়ন বিএসএফের খান্দুয়া ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) নৌকাডুবির বিষয়টি জানিয়ে জানান যে, বিএসএফ ১০ বাংলাদেশিকে জীবিত উদ্ধার করেছে। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে চারজন পুরুষ, তিনজন নারী ও তিনজন শিশু রয়েছে। খবর পেয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৩ বিজিবি) তাদের দেশে ফিরিয়ে আনতে দ্রুত উদ্যোগ নেয়। এরপর রাত ৯টা ৫৫ মিনিটে ফরিদপুর বিওপি কমান্ডার ও খান্দুয়া বিএসএফ ক্যাম্প কমান্ডারের মধ্যে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে উদ্ধার হওয়া ১০ বাংলাদেশিকে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়।
রাতেই স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে উদ্ধার হওয়া ১০ নাগরিককে তাদের নিকটাত্মীয় মো. ইসমাইল হোসেনের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়। বিজিবি জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া সবাই সুস্থ আছেন।
উদ্ধারকৃত ব্যক্তিরা হলেন— মো. রাসেল (২৬), মো. ইব্রাহিম (৫০), সওদাগর (৪০), মো. ইব্রাহিম (৬০), সখিনা (৪৫), নিলুফা (৩৫), তানিয়া (২২) ও তাঁর ২০ দিন বয়সী শিশু সন্তান, সানাউল্লাহ (৯) এবং আল আমিন (৯)। তাদের সবার বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের জহুরপুর (বকরীপাড়া) গ্রামে।
এদিকে, একই গ্রামের মৃত আলতাব হোসেনের ছেলে মো. মোস্তফা (৬০) এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁর সন্ধানে উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









