গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার চরপ্রসন্নদি এলাকার বরিশাল গেট চাইনিজ অ্যান্ড বাংলা হোটেলে খাবারের অতিরিক্ত দাম রাখা, মাদক, অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও এলাকাবাসীর ওপর হামলার অভিযোগে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মুকসুদপুর উপজেলার রাঘদী এলাকার ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে দাঁড়িয়ে ভুক্তভোগী সহস্রাধিক এলাকাবাসী এই কর্মসূচি পালন করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, হোটেলটিতে খাবারের স্বাভাবিক মূল্যের তুলনায় ৩ থেকে ৪ গুণ বেশি দাম রেখে গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। খাবার বিক্রির আড়ালে সেখানে মাদক কারবার ও নারীসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগও তোলেন স্থানীয়রা। অবিলম্বে এই হোটেলটি চিরতরে বন্ধের দাবি জানান তারা।
মানববন্ধনে রাঘদী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী পলাশ শেখ বলেন, খাবারের অতিরিক্ত দাম নেওয়াকে কেন্দ্র করে কিছু গ্রাহকের সাথে হোটেল কর্তৃপক্ষের বাকবিতণ্ডা হয়। তিনি পরিস্থিতি শান্ত করতে গেলে হোটেল কর্তৃপক্ষ গ্রাহকদের পাশাপাশি তাকেও মারধর করে এবং এতে চারজন গ্রাহক গুরুতর আহত হন। আহতদের উদ্ধারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয় এবং হোটেলে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীদের মারধরে তিনি নিজে আহত হয়েছেন এবং তার পকেট থেকে ২ লাখ টাকা হারিয়ে গেছে। এর আগেও হোটেল কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সময়ে গ্রাহকদের ওপর হামলা চালিয়েছে বলে জানান তিনি।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দা মিজানুর শেখ ও মোহাম্মদ শেখ বলেন, হোটেলটিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলছে। সাধারণ মানুষের সাথে অন্যায় আচরণ ও অতিরিক্ত দাম আদায়ের বিষয়টি প্রশাসনকে গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার খাবারের বিল নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে হোটেল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়দের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে হোটেল ভাঙচুর ও স্থানীয় কয়েকজন আহত হওয়ার জের ধরেই এই কর্মসূচি পালন করে এলাকাবাসী।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









