বাড়ির উঠানে তখন ব্যস্ততা। কেউ ঘরের টিন খুলছেন, কেউ আসবাবপত্র সরিয়ে নিচ্ছেন নিরাপদ জায়গায়। চোখেমুখে আতঙ্ক। কখন যে বসতভিটাটুকুও তিস্তার গর্ভে চলে যায়, সেই শঙ্কায় ঘর সরিয়ে নিচ্ছেন রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার লক্ষ্মিটারী ইউনিয়নের জয়রাম ওঝা চল্লিশসাল গ্রামের কয়েকটি পরিবার।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে দেখা যায়, তিস্তার তীব্র স্রোতে গ্রামের নদীতীরজুড়ে ভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙনের মুখে পড়েছে বসতভিটা ও ফসলি জমি। নদীর কাছাকাছি থাকা কয়েকটি পরিবার ইতিমধ্যে নিজেদের উদ্যোগে ঘরবাড়ি ও প্রয়োজনীয় মালামাল সরিয়ে নিচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মতিয়ার রহমান বলেন, ‘নদী যেভাবে ভাঙছে, তাতে কখন যে বাড়িঘর নদীতে চলে যায় বলা যায় না। বাধ্য হয়ে ঘরসহ জিনিসপত্র সরিয়ে নিচ্ছি। আমাদের ফসলি জমিও ভেঙে যাচ্ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আরও অনেক বাড়িঘর ও জমি নদীগর্ভে চলে যাবে।’

লক্ষ্মিটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লা আল হাদী বলেন, জয়রাম ওঝা চল্লিশসাল এলাকায় তিস্তার ভাঙন ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। কয়েকটি পরিবার ইতিমধ্যে বাড়িঘর সরিয়ে নিচ্ছে। ভাঙন অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলা ও পাইলিংয়ের কাজ শুরু করা প্রয়োজন।
গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. জেসমিন আক্তার বলেন, তিস্তার ভাঙনের বিষয়টি জেলা প্রশাসক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে। ভাঙনকবলিত এলাকার পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, ভাঙন দ্রুত ঠেকানো না গেলে অল্প সময়ের মধ্যেই আরও বসতভিটা ও ফসলি জমি নদীগর্ভে চলে যেতে পারে। তাই ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলা ও পাইলিংয়ের কাজ শুরুর দাবি জানিয়েছেন তারা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









