ময়মনসিংহের গৌরীপুরে শতবর্ষী রাজেন্দ্র কিশোর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী পুরোনো মূল ভবন সংস্কার, সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ‘ঐতিহ্য হারিয়ে গেলে ফিরিয়ে আনা যায় না’ এই বার্তাকে সামনে রেখে সকালে বিদ্যালয়ের নতুন ভবনের মিলনায়তনে এ সভার আয়োজন করেন বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফিয়া আমীন পাপ্পা। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা রুবিয়া খাতুন নীপার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সহকারী প্রধান শিক্ষক (দায়িত্বপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ বদরুল আলম।
সভায় বক্তব্য দেন গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান, বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও গৌরীপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি বেগ ফারুক আহাম্মেদ, ময়মনসিংহ উত্তর জেলা যুবদলের সভাপতি ও সাবেক ভিপি মো. শামছুল হক শামসু, সহসভাপতি মাহফুজুর রহমান মাহফুজ, গৌরীপুর পৌর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব রমজান হোসেন খান জুয়েল, ময়মনসিংহ উত্তর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি নুরুজ্জামান সোহেল, দৈনিক আগামীর সময় পত্রিকার গৌরীপুর প্রতিনিধি আরিফ আহম্মেদ, বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মো. মনিরুজ্জামান মনি, তৌহিদুল আমীন তুহিন ও জুলাই যোদ্ধা বাহালুল মুন্সি প্রমুখ।
১৯১১ সালে প্রতিষ্ঠিত রাজেন্দ্র কিশোর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের পুরোনো ভবনটি গৌরীপুরের শিক্ষা ও ঐতিহ্যের অন্যতম স্মারক। দীর্ঘ সময় ধরে এই ভবনের শ্রেণিকক্ষ ও বারান্দায় পড়াশোনা করেছেন কয়েক প্রজন্মের শিক্ষার্থী। সেই স্মৃতিবিজড়িত ভবনটির বর্তমান অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ সংরক্ষণ নিয়েই সভায় সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়।
বক্তারা বলেন, আর কে স্কুল শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয় এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে গৌরীপুরের শত বছরের ইতিহাস, শিক্ষা-সংস্কৃতি এবং বহু মানুষের শৈশব-কৈশোরের স্মৃতি। তাই পুরোনো ভবনটির মূল স্থাপত্যশৈলী ও ঐতিহাসিক বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ন রেখে প্রয়োজনীয় সংস্কার করা জরুরি।
সভায় ভবনটির নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সন্ধ্যার পর পুরোনো ভবনটি অনেকটা অরক্ষিত হয়ে পড়ে। সেখানে বখাটে ও মাদকসেবীদের আনাগোনা এবং জুয়াসহ বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের দাবি, এরই মধ্যে ভবনের কিছু পুরোনো দরজা-জানালা ও গ্রিল চুরি হয়ে গেছে।
প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা বলেন, এভাবে চলতে থাকলে একদিকে ভবনের ঐতিহাসিক বৈশিষ্ট্য নষ্ট হবে, অন্যদিকে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাবে গৌরীপুরের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্য। এ কারণেই তাঁরা ভবনটি রক্ষায় সংগঠিতভাবে উদ্যোগ নিয়েছেন।
আলোচনায় ভবনটির বর্তমান অবস্থা কারিগরিভাবে পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া, পুরোনো নকশা ও স্থাপত্যের বৈশিষ্ট্য বজায় রাখা এবং ভবনের নিরাপত্তায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ কাজে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সমন্বিতভাবে কাজ করার কথাও উঠে আসে।
সভায় বক্তারা বলেন, শতবর্ষের বেশি সময় ধরে দাঁড়িয়ে থাকা এই ভবনটি শুধু অতীতের স্মৃতি নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছেও গৌরীপুরের ইতিহাস জানার একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। তাই সময় থাকতে ভবনটি সংরক্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
মতবিনিময় সভায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক, প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









