ফেনীর সোনাগাজীর আলোচিত নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় উচ্চ আদালতের রায়ে খালাস পাওয়া কামরুন্নাহার মনিসহ আটজন গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার ও মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিট থেকে পর্যায়ক্রমে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মো. জাকির হোসেন।
তিনি বলেন, ‘‘মুক্তির যাবতীয় কাগজপত্র কারাগারে পৌঁছানোর পর তা যাচাই-বাছাই করে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে।’’
মুক্তিপ্রাপ্তরা হলেন—মো. শামীম, হাফেজ আব্দুল কাদের, মহিউদ্দিন শাকিল, আফসার উদ্দিন, ইমরান হোসেন মামুন, ইফতেখার উদ্দিন রানা, আব্দুর রহিম শরীফ ও কামরুন্নাহার মনি। এ সময় কামরুন্নাহার মনির সঙ্গে তার সাত বছর বয়সী মেয়ে মোবাশ্বেরা খানম রাথীও কারাগার থেকে বের হয়।
মুক্তির খবর পেয়ে সকাল থেকেই তাদের স্বজনেরা কাশিমপুর কারাগারের মূল ফটকের সামনে অপেক্ষা করতে থাকেন। কারাগার থেকে বের হওয়ার পর স্বজনদের কাছে পেয়ে মুক্তিপ্রাপ্তদের অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরে তারা পরিবারের সদস্য ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সঙ্গে দেখা করে ফেনীর উদ্দেশে রওনা হন বলে জানা গেছে।
নুসরাত হত্যা মামলা
২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ উদদৌলার বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ করেন নুসরাত জাহান রাফির মা শিরীন আক্তার। পরে পুলিশ অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাকে গ্রেপ্তার করে।
এরপর ৬ এপ্রিল আলিম পরীক্ষা দিতে মাদরাসায় গেলে নুসরাতকে কৌশলে ছাদে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়। ১০ এপ্রিল চিকিৎসাধীন অবস্থায় নুসরাতের মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান সোনাগাজী থানায় হত্যা মামলা করেন।
মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৬ আসামির মধ্যে উচ্চ আদালত ১০ জনকে খালাস দিয়েছেন। এছাড়া চারজনের মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। যাবজ্জীবন পাওয়া চার আসামি হলেন—উম্মে সুলতানা পপি, মোহাম্মদ নুরুদ্দিন, শাহাদাত হোসেন জাবেদ ও ইফতেখার হোসেন রানা।
অন্যদিকে মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা দুই আসামি হলেন—অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ উদদৌলা ও শাহাদাত হোসেন শামীম।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









