কক্সবাজারের টেকনাফে ঘোরানোর কথা বলে পাঁচজনকে নিয়ে গিয়ে আটকে রেখে নির্যাতন ও মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে মানবপাচার চক্রের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১৫। একই সঙ্গে ওই পাঁচ ভুক্তভোগীকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) ভোর ৫টার দিকে উপজেলার সাবরাং জিরো পয়েন্ট মেরিন ড্রাইভ সড়কসংলগ্ন খনকারপাড়া ঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার হলেন মো. আনাস ওরফে মুন্না (১৯)। তিনি টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ছোট হাবিবপাড়া ৭ নম্বর ওয়ার্ডের আবদুর রহিম ও হাসিনা আকতার দম্পতির ছেলে।
রবিবার রাত ১০ টার দিকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১৫ এর সহকারী পুলিশ সুপার সহকারী পরিচালক(ল' এন্ড মিডিয়া) আ. ম. ফারুক।
তিনি জানান , গত ১১ সেপ্টেম্বর বিকেলে পাঁচজনকে সাবরাং জিরো পয়েন্ট সমুদ্রসৈকতসহ বিভিন্ন এলাকা ঘোরানোর কথা বলে সিএনজি অটোরিকশায় করে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে রাত ৮টার দিকে মুন্নার বাড়িতে রাতযাপনের কথা বলে তাদের চোখ গামছা দিয়ে বেঁধে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে তাদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। একই সঙ্গে অবৈধ নৌপথে ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ায় পাচারের পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন এসআরবি।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের পরিবারের পক্ষ থেকে গত ১৬ সেপ্টেম্বর এসআরবি-১৫-এর ব্যাটালিয়ন সদরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করে এসআরবি।
এরই ধারাবাহিকতায় রোববার ভোরে খনকারপাড়া ঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে আনাস ওরফে মুন্নাকে গ্রেপ্তার এবং পাঁচ ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে চক্রের অন্য সদস্যরা পালিয়ে যায় বলে জানায় এসআরবি।
উদ্ধারকৃতরা হলেন- আল আমিন কাউসার (১৮), মো. রাশেদ (২০), সাকিবুল হাসান সাকিব (১৮), মো. সাইফুল ইসলাম (১৬) ও মো. আব্দুল্লাহ (১৬)।
এসআরবি কর্মকর্তা আ. ম. ফারুক জানান, উদ্ধারের পর তাদের প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পরে গ্রেপ্তার আসামি ও উদ্ধার ভুক্তভোগীদের টেকনাফ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্য পলাতক ও অজ্ঞাতনামা আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে এই কর্মকর্তা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









