তিন দিন ধরে নেই কোনো খোঁজ। ঘরের কোণে ছেলের বই-খাতা, অথচ নেই চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র মো. হামিম খান (১২)। এক মুহূর্তের বকাঝকার পর যে ছেলে স্বাভাবিকভাবেই বাড়ি থেকে বের হয়েছিল, সেই ছেলের সন্ধানেই এখন পথে পথে ঘুরছেন দিনমজুর বাবা-মা।
পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার সেহাংগল গ্রামের দিনমজুর মো. জাকির খানের ছেলে হামিম। সে স্থানীয় সুন্দর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। শনিবার সকালে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আর ফেরেনি সে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, ওই সকালে হামিমের মা মোসা. ছবি বেগম ঘরের বাইরের কাজে ব্যস্ত ছিলেন। যাওয়ার সময় আড়াই বছর বয়সী ছোট ছেলেকে হামিমের কোলে দিয়ে যান। কিছুক্ষণ পর ছোট ছেলের কান্না শুনে ঘরে ফিরে তিনি দেখেন, শিশুটি হামিমের কাছ থেকে মাটিতে পড়ে কাঁদছে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি হামিমকে কিছুটা বকাঝকা করেন। এরপর স্বাভাবিকভাবেই বাড়ি থেকে বের হয়ে যায় হামিম।
দুপুরে ছেলেটি বাড়িতে না ফেরায় শুরু হয় খোঁজাখুঁজি। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ নেওয়ার একপর্যায়ে পরিবার জানতে পারে, স্থানীয় আব্দুর রহিমের অটোরিকশায় করে হামিম স্বরূপকাঠির দিকে যাচ্ছিল। এরপর স্বরূপকাঠি, কাউখালীসহ বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ চালানো হয়। আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতজনদের বাড়িতেও সন্ধান করা হয়। কিন্তু তিন দিনেও মেলেনি হামিমের সন্ধান।
সোমবার সন্ধ্যায় নেছারাবাদ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন হামিমের মা ছবি বেগম।
ছেলের কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। ছবি বেগম বলেন, ছোট ভাইয়ের সঙ্গে দুষ্টুমি করায় ছেলেকে একটু বকাঝকা করেছিলেন। এরপর সে স্বাভাবিকভাবে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। দুপুরে বাড়িতে না ফেরায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
ছেলের সন্ধানে কাজকর্ম ফেলে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন দিনমজুর বাবা জাকির খানও। অভাবের সংসারে কাজের চেয়ে এখন তার কাছে বড় হয়ে উঠেছে নিখোঁজ ছেলেকে ফিরে পাওয়ার অপেক্ষা।
পরিবারের সদস্যরা দ্রুত হামিমের সন্ধান পেতে সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন।
নেছারাবাদ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, হামিম নিখোঁজের ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









