কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনতা থেকে মুক্তির দাবিতে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করছেন। গতকাল রবিবার বেলা ১১টার দিকে প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটক অবরুদ্ধ করে তাঁরা এ কর্মসূচি শুরু করেন। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত কর্মসূচি চলছিল। এতে ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে প্রশাসনিক ভবনের ভেতরে আটকা পড়েছেন কলেজের অধ্যক্ষসহ ১৪ শিক্ষক। এ ছাড়া ৬ থেকে ৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীও সেখানে অবরুদ্ধ রয়েছেন।
২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠিত সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল, পুরকৌশল এবং কম্পিউটারবিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগ রয়েছে। পাঁচটি ব্যাচে শিক্ষার্থী প্রায় এক হাজার। তাঁদের বেশির ভাগই আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন।
সোমবার সরেজমিনে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটক অবরুদ্ধ করে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন। ফটকে তালা থাকায় অধ্যক্ষসহ শিক্ষকেরা ভবনের ভেতরে অবস্থান করছেন। একই ভবনে কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও আটকা পড়েছেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে থাকার কারণে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রির স্বকীয়তা ও পেশাগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ বিষয়ে শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে এলেও এখন পর্যন্ত আশানুরূপ ফল পাওয়া যায়নি। তাঁদের অভিযোগ, প্রশাসনিক কালক্ষেপণের কারণে তাঁদের একাডেমিক জীবন অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছে।
শিক্ষার্থীরা বলেন, বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রির মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখতে তাঁরা কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে থাকতে চান না। তাঁদের একমাত্র দাবি, অবিলম্বে এই অধীনতা থেকে কলেজকে মুক্ত করা। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত কলেজের সব ক্লাস, পরীক্ষা, ল্যাব, একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন তাঁরা।
এদিকে গতকাল রবিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের উপসচিব সাজ্জাদ হোসেনের স্বাক্ষরে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের অধ্যক্ষ পদে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সহযোগী অধ্যাপক মো. আসাদুজ্জামানকে ফরিদপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে বদলি করা হয়েছে। একই প্রজ্ঞাপনে ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের সহযোগী অধ্যাপক মো. সাহিদ ইকবালকে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের অধ্যক্ষ পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁদের সোমবারের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল থেকে বদলি করা কর্মস্থলে যোগ দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের বদিল আদেশকে স্বেচ্ছাচারিতা বলছেন শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনকারী সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ফাহাদ সোমবার পৌনে ১টার দিকে দৈনিক এদিনকে বলেন, অধ্যক্ষের বদলির আদেশ শিক্ষার্থীরা প্রত্যাখ্যান করেছেন। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান অধ্যক্ষকে ক্যাম্পাসের বাইরে যেতে এবং নতুন অধ্যক্ষকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ক্যাম্পাসের কার্যক্রম ‘শাটডাউন’ থাকবে।
তিনি বলেন, বেলা সাড়ে ১২টার দিকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সাঈদা পারভীন ঘটনাস্থলে এসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা তাঁকে জানান, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কোনো স্বেচ্ছাচারিতা তাঁরা মেনে নেবেন না।
এ বিষয়ে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, শিক্ষার্থীরা কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনতা থেকে মুক্তির দাবিতে আন্দোলন করছেন। তাঁরা শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে যেতে চান। আন্দোলনের কারণে ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে প্রায় ২০ জন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী প্রশাসনিক ভবনে অবরুদ্ধ হয়ে আছেন। বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









