পাবনার ঈশ্বরদীতে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কৃষক মো. শামীম হোসেনের বসতবাড়ির তিনটি ঘর পুড়ে সম্পূর্ণ ছাই হয়ে গেছে। আগুনে ঘরে থাকা নগদ প্রায় এক লাখ টাকা, স্বর্ণালংকার ও আসবাবপত্রসহ প্রয়োজনীয় সব মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি।
গত বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নের খারজানী গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গভীর রাতে হঠাৎ করেই শামীম হোসেনের গোয়ালঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের তীব্র শিখা ছড়িয়ে পড়ে পাশের দুটি বসতঘরে। দেখতে দেখতে তিনটি ঘরই আগুনে সম্পূর্ণ পুড়ে ভস্মীভূত হয়ে যায়। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, আগুন লাগার পর গোয়ালঘরে থাকা গরুগুলো দড়ি ছিঁড়ে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হওয়ায় গবাদিপশুগুলো রক্ষা পায়।
এদিকে দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত এগিয়ে এসে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালান। খবর পেয়ে রাত দেড়টার দিকে রূপপুর মডার্ন ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা দিলেও এলাকাটির যাতায়াতের রাস্তা সংকীর্ণ ও গাড়ি চলাচলের অনুপযোগী হওয়ায় কর্মীদের হেঁটে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে হয়। তবে তার আগেই স্থানীয়রা আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
আবেগপ্লুত কণ্ঠে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক শামীম হোসেন জানান, সামনের সবজি চাষ ও কৃষিকাজের খরচ মেটানোর জন্য তিনি কষ্ট করে নগদ প্রায় এক লাখ টাকা জমিয়ে রেখেছিলেন। কিন্তু বিধ্বংসী আগুনে সেই টাকা ও স্বর্ণালংকারসহ সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুন নেভানোর পর ছাই ঘেঁটেও কোনো অবশিষ্ট পাওয়া যায়নি। মাথা গোঁজার শেষ সম্বল হারিয়ে পরিবারটি এখন সম্পূর্ণ নিঃস্ব।
বিষয়টি নিশ্চিত করে রূপপুর মর্ডান ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. কাজল মিয়া জানান, প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক গোলযোগ (শর্ট সার্কিট) থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে সঠিক কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিশ্চিত করা যাবে।
চোখের সামনে সব হারিয়ে পরিবারটি বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত এই পরিবারটির দ্রুত পুনর্বাসনের জন্য সরকারি অনুদানের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদের এগিয়ে আসার জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









