চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের আকস্মিক বন্যা এবং ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর জরুরি প্রয়োজন পূরণ, দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্বাসন এবং ভবিষ্যৎ দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া ও বড়লেখা উপজেলায় জরুরি সহায়তা প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে ক্যাথলিক রিলিফ সার্ভিসেস (সিআরএস)-এর অর্থায়নে এবং কারিতাস বাংলাদেশ।
সরেজমিনে জানা যায়, প্রকল্পের আওতায় ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত কুলাউড়া উপজেলার মৈদাম ও মুরইছড়া পানপুঞ্জি এবং বড়লেখা আদিবাসী এলাকার ২৩৫ জন (প্রতিবেদনে উল্লিখিত) পরিবারকে জনপ্রতি ৬ হাজার টাকা করে শর্তহীন নগদ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এই সহায়তার মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো নিজেদের প্রয়োজন ও অগ্রাধিকার অনুযায়ী অর্থ ব্যয় করার সুযোগ পেয়েছেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, দুর্যোগের পর পরিবারের জরুরি প্রয়োজন মেটানো, ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি বা সম্পদ পুনর্বাসন এবং জীবিকা পুনরায় সচল করার ক্ষেত্রে এই নগদ সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। শর্তহীন এই সহায়তার বড় সুবিধা হলো, উপকারভোগীরা নিজেরাই তাঁদের সবচেয়ে জরুরি প্রয়োজন নির্ধারণ করে তা মেটাতে পারছেন।
এছাড়া প্রকল্পের আওতায় কমিউনিটি পর্যায়ে ভূমিধসের ঝুঁকি কমাতে কুলাউড়া ও বড়লেখার বিভিন্ন পানপুঞ্জিতে সিঁড়ি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের দৈনন্দিন যাতায়াত সহজ ও নিরাপদ হওয়ার পাশাপাশি দুর্যোগের সময় যোগাযোগব্যবস্থা সচল রাখার সুযোগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়ভাবে নির্মিত এসব সিঁড়ি ভূমিধসপ্রবণ এলাকায় মানুষের নিরাপদে চলাচলে সহায়তার পাশাপাশি ভবিষ্যতে জরুরি পরিস্থিতিতে কমিউনিটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হিসেবে ব্যবহৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সিঁড়ি নির্মাণের ফলে আদিবাসী স্কুলগামী শিক্ষার্থী, পান বহনকারী শ্রমিক, স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকরা নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতে পারছেন।
স্থানীয় পুঞ্জির বাসিন্দারা জানান, সিঁড়ি নির্মাণের পূর্বে বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে তাঁদের খুব কষ্টের মধ্য দিয়ে পুঞ্জিতে যাতায়াত করতে হতো। বর্তমানে এই সিঁড়ি নির্মিত হওয়ায় তাঁরা খুব সহজে ও নিরাপদে যাতায়াত করতে পারছেন। এ সময় তারা প্রকল্প বাস্তবায়নকারী ক্যাথলিক রিলিফ সার্ভিসেস (সিআরএস) এবং কারিতাস বাংলাদেশকে পুঞ্জিবাসীর পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









