সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার সলঙ্গা থানার নয়াপাড়া রশীদপুর এলাকায় এক অটোভ্যানচালক যুবককে জিম্মি করে বলাৎকার এবং সেই ঘটনার ভিডিও ধারণ করে চাঁদা দাবির এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী যুবক মিলন হোসেন বাদী হয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সলঙ্গা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
মামলার অভিযুক্তরা হলেন— হাটিকুমরুল ইউনিয়নের নয়াপাড়া রশীদপুর গ্রামের লিটনের ছেলে হৃদয় হোসেন, শামসুলের ছেলে শফি আহামেদ, শফির ছেলে নাঈম আহামেদ, ইসমাইলের ছেলে সিয়াম হোসেন এবং মনিরুল ইসলাম, কাইয়ুম, তুহিন ও শফিকুল ইসলামসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী যুবক নয়াপাড়া রশীদপুর গ্রামে এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে আসেন। রাতে স্থানীয় একটি দোকানের পাশে অবস্থানকালে অভিযুক্তরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে কৌশলে তাকে কাছের একটি নির্জন বাঁশবাগানে নিয়ে যায়। সেখানে অভিযুক্ত মনিরুল ইসলাম ভীতি প্রদর্শন করে সহযোগীদের নিয়ে তাকে জোরপূর্বক সংঘবদ্ধ বলাৎকার করে।
একই সময়ে অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকজন তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে সম্পূর্ণ ঘটনার দৃশ্য ধারণ করে। ভুক্তভোগী যুবকের ডাক-চিৎকারে স্থানীয় বাসিন্দারা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে ধারণকৃত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে জনপ্রিয় যোগাযোগ মাধ্যম ‘ইমু’ (Imu) অ্যাপের মাধ্যমে ভুক্তভোগীর আত্মীয়ের কাছে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা না দিলে ভিডিওটি ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী জানান, “ঘটনার পর পারিবারিকভাবে এবং স্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে গত শনিবার (২৮শে সেপ্টেম্বর) সলঙ্গা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। আমি এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”
সলঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “এ সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ আমরা হাতে পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









