পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় প্রবাসীর কেনা জমি দখলচেষ্টা, ঘরের বেড়া ভাঙা ও মালামাল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে সাবেক এক ইউপি চেয়ারম্যানসহ দুজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন এক ব্যক্তি। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে জমিটির মালিকানা দাবি করেছেন অভিযুক্ত সাবেক চেয়ারম্যান। জমি নিয়ে বিরোধের জেরে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে দুই পক্ষকে নোটিশ দিয়েছে পুলিশ।
মামলার বাদী মো. মানিক মিয়া (৬৫) মঠবাড়িয়া সদর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। মামলার আসামিরা হলেন ওই ইউনিয়নের আন্ধারমানিক এলাকার সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. জালাল মিয়া (৬০) ও মঠবাড়িয়া পৌরসভার বহেরাতলা এলাকার মো. রতন মিয়া (৫৫)। এ ছাড়া ২০ থেকে ৩০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। মঠবাড়িয়া এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি এমপি মামলা নম্বর ১৮৮/২০২৬ (মঠবাড়িয়া) হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে।
আদালতে দাখিল করা অভিযোগে বলা হয়েছে, মঠবাড়িয়া মৌজার ২১ নম্বর জে এলভুক্ত সাবেক ১৫৬ নম্বর খতিয়ানের ১১৫৬ নম্বর দাগের জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছে। বাদী মানিক মিয়ার দাবি, জমিটি তার ভোগদখলে ছিল। পরে তিনি জমিটি প্রবাসী জাহিদুল ইসলামের কাছে বিক্রি করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৯ আগস্ট রাত আটটা থেকে পরদিন রাত দুইটার মধ্যে আসামিরা লোকজন নিয়ে ওই জমিতে প্রবেশ করেন। এ সময় টিনের বেড়া ভেঙে ঘরে ঢুকে আসবাবসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যাওয়া হয়। এতে কয়েক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন বাদী। এ ছাড়া বাধা দিলে প্রবাসী জাহিদুল ইসলামের পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি দেখানো ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
মানিক মিয়া বলেন, নগদ অর্থের প্রয়োজনে তিনি জমিটি জাহিদুল ইসলামের কাছে বিক্রি করে বুঝিয়ে দিয়েছেন। জাহিদুল প্রবাসে থাকায় তার পক্ষে তিনি মামলা করেছেন।
প্রবাসী জাহিদুল ইসলাম বলেন, ২০১৮ সালে ৪ দশমিক ২৫ শতাংশ এবং ২০২৫ সালে ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ জমি মানিক মিয়ার কাছ থেকে কিনেছেন তিনি। জমি কেনার পর প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ভিত্তিতে নিয়ম অনুযায়ী নামজারিও সম্পন্ন করেছেন বলে দাবি করেন তিনি। জাহিদুলের অভিযোগ, জমিতে থাকা দুটি ঘর ও মালামাল প্রতিপক্ষ নিয়ে গেছে। জমি কেনার পর থেকে তারা চাপ ও হয়রানির পাশাপাশি প্রাণনাশের হুমকির মুখে রয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জালাল মিয়া। তার দাবি, বিরোধপূর্ণ জমির মালিক তিনি। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিশ হয়েছে। সালিশের রোয়েদাদে ওই জমিতে মানিক মিয়ার কোনো স্বত্ব নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছে। মানিক মিয়া তার প্রাপ্যের চেয়ে বেশি জমি বিক্রি করেছেন বলেও দাবি করেন জালাল মিয়া।
জালাল মিয়া বলেন, মামলা হয়েছে। আদালতে দুই পক্ষই নিজেদের কাগজপত্র জমা দেবে। আদালতের রায়ে যা নির্ধারিত হবে, তা তিনি মেনে নেবেন।
মঠবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম শনিবার গণমাধ্যমকে বলেন, জমিটি নিয়ে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারার আদেশ রয়েছে। এ আদেশের বিরুদ্ধে জালাল মিয়া উচ্চ আদালতে মামলা করেছিলেন। তবে উচ্চ আদালত মামলাটি খারিজ করে দিয়ে স্থগিতাদেশ বহাল রেখেছেন বলে জানান তিনি। জমি নিয়ে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ দুই পক্ষকে নোটিশ দিয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









